
টোকিও, ২৪ আগস্ট : কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সোমবার টোকিওতে 'জাপান চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'-এর 'জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি' এবং ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। এই বৈঠকে তিনি বলেন, "আমাদের নেতৃবৃন্দ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বছরটিকে 'ভারত-জাপান শেয়ারড হরাইজনস ইয়ার' (যৌথ দিগন্তের বছর) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজকের চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না—আগামী দশকটি কীভাবে এগোবে এবং আমাদের নেতাদের মধ্যকার শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ কীভাবে বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত সময় এটি। ভারতে ইতিমধ্যেই প্রচুর সংখ্যক জাপানি কোম্পানি কাজ করছে। আমার বিশ্বাস, এই দশকে সেই সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে। আমরা 'ক্রমাগত উন্নতির' নীতিতে বিশ্বাসী। ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপনের সময় আমরা যখন ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাব, তখন জাপানকে আমাদের সহযোগী হিসেবে পাশে পেতে চাই। এটি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য, তবে ১৪০ কোটি ভারতীয় এটি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল আরও বলেন, "বস্তুত, বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী আমাদের রয়েছে, যাদের গড় বয়স ৩০ বছরের নিচে; এবং আগামী বহু দশক ধরে এই তারুণ্য বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জাপানের সাফল্যের একটি উদাহরণ—সুজুকি—এর দিকে তাকালেই গত চার দশকে তাদের অতিক্রান্ত যাত্রাপথটি উপলব্ধি করা যায়। এখন আমরা দেখছি, ভারত থেকে পরিচালিত তাদের কার্যক্রমগুলো অত্যন্ত বিশাল এবং লাভজনক হয়ে উঠেছে। আমাকে জানানো হয়েছে, ভারতে সুজুকির বাজারমূল্য তাদের মূল জাপানি কোম্পানিটির বাজারমূল্যের চেয়েও বেশি। আপনারা যে ১,৫৮০টি কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও আমরা এমনটাই ঘটতে দেখতে চাই। আমরা চাই ভারত থেকে ১,৫৮০টি 'সুজুকি'-র মতো সফল প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক।"
