
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এ যেন বিপদের উপর আরও বড় বিপদ। বুধবারের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই উত্তর নেপালে ফের হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রথমে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। USGS-এর আপডেট অনুযায়ী, এদিন সকালে চিনের সিচুয়ান সংলগ্ন এলাকায় ৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর পরেই তিব্বতের কাছে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসে। ফলে আগামী ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফের হড়পা বান নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাসুয়া ও ধাদিং জেলায় জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। নতুন করে বানের আশঙ্কায় আপাতত উদ্ধারকাজও বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান অঞ্চলে নতুন করে জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। সিনহুয়া নিউজ়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৫.১। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টার (CENC) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল প্রায় ২৯.২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ১০৫.২২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে মাটির ১৩ কিমি গভীরে। আমেরিকার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা USGS-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫। এর জেরেই তিব্বতের বাঁধ ফেটে বিপদ ঘটেছে কি না তা স্পষ্ট নয়। বুধবার তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের বানবিধ্বস্ত এলাকার রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতওয়ানে জারি করা হয়েছে নতুন করে সতর্কবার্তা। প্রাণহানি এড়াতে বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় দ্রুত সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
২৬ অগস্টের ভয়াবহ বিপর্যয়ে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে যায়। হিমবাহ ও পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে নদীতে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। সেই প্রবল স্রোত ভাসিয়ে দেয় রাস্তা, সেতু, বাড়িঘর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেই ধ্বংসাবশেষই নতুন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীর গতিপথ আটকে বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রাকৃতিক বাঁধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে জল জমে তৈরি হয়েছে ‘ব্যারিয়ার লেক’। জলস্তর আরও বাড়লে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে ফের ভয়াবহ জলস্রোত নেমে আসতে পারে বলে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের একটি বিপজ্জনক জলাধারে আগামী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ঢুকতে পারে। যদিও ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এমন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন সকালে চিনে ভূমিকম্পের পরেই তিব্বতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় ফের বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
