
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘কমিউনিস্টরা দেশদ্রোহীদের জন্ম দেয়’—গেরুয়া শিবিরের তরফে এমন অভিযোগ নতুন নয়। এই ইস্যুতে বাম ও ডানপন্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক তরজা চলে আসছে। এবার সেই বিতর্কে নতুন করে আগুন ঘি ঢাললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী তথা ‘দাবাং’ নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বামপন্থীদের নিশানা করেন তিনি। দিলীপের দাবি, “রাতারাতি আরশোলারা আর কোথা থেকে আসবে? এসবই তো কমিউনিস্টদের তৈরি। তারাই আরশোলা, ছারপোকাদের তৈরি করে। বামপন্থীদের হাত ধরে দেশদ্রোহী তৈরি হয়। যারা আন্দোলনের নামে সমাজে অশান্তি বাঁধায়।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও সমালোচনা।
আসলে দিলীপ ঘোষের এহেন কমিউনিস্ট-বিরোধী মন্তব্যের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল সোমবার, বাঁকুড়ার ইন্দাসে। সেখানকার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র সমর্থক শেখ আবদুল হাফিজের বাড়িতে হামলায় তাঁর বাবার মৃত্যুর পর। সোমবার সংগঠনের সমর্থক হাফিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি থেকে এসেছিলেন ‘ককরোচ’দের অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা-সহ বেশ কয়েকজন। তাঁদেরই সঙ্গে দেখা গিয়েছে সিপিএমের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ, ময়ূখ বিশ্বাসদের। একসঙ্গে তাঁরা গিয়েছিলেন করিশুন্ডা গ্রামে, হাফিজের বাড়ি। পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলা থেকে বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক পর্যন্ত আশুতোষদের পাশে পাশেই দেখা গিয়েছে শতরূপদের। সকলে তাঁরা হানিফকে ঘিরে ছিলেন।শুধু তাই নয়, হানিফের বাবা শেখ মাফিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে সোমবার রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। করিশুন্ডা গ্রামে জনতার উদ্দেশে শতরূপের বক্তব্যেও উঠে আসে ককরোচ প্রতিনিধিদের কথা।
সিজেপি ও সিপিএম-এসএফআইয়ের এই মেলামেশা নিয়ে রাজনীতির অন্দরে হালকা চর্চাও শুরু হয়েছে। ‘ককরোচ’ সমর্থকদের একাংশের মত, বাংলায় এভাবে সরাসরি সিপিএম নেতৃত্বের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করা আশুতোষ রাঙ্কাদের দেখে ভুল বার্তা পেতে পারে জেন জি। মতাদর্শে প্রভাব পড়তে পারে। তাতে আন্দোলনেরই ক্ষতি হবে। এবার এনিয়ে ফের কমিউনিস্টদেরই কাঠগড়ায় তুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বাঁকুড়ার ঘটনায় সিজেপি প্রতিনিধিদের আসার সঙ্গে দিল্লির আন্দোলনেরও তুলনা করে ফেললেন তিনি। দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‘কমিউনিস্টদের হাত ধরেই তো রাতারাতি আরশোলা, ছারপোকা তৈরি হয়েছে আর সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বামপন্থীদের মাথা থেকেই বেরচ্ছে। এরা ছাত্র আন্দোলনের নাম করে অশান্তি করছে। দিল্লিতে তো দেখা গেল কী হয়েছে। তবে আমাদের রাজ্য সরকার সতর্ক। এখানে ওই ধরনের অশান্তি করতে চাইলে কেউ সফল হবে না। রুখে দেওয়া হবে।”
