
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর হাত ধরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান। জীবনের অন্যতম বড় সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত অভিনেতা। তাঁর এই সাফল্যে আনন্দিত ছবির পরিচালক কবীর খানও। আর সেই আনন্দ উদযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি বিশেষ স্মৃতি—রসমালাই। জাতীয় পুরস্কারে কার্তিকের সাফল্যের পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কবীর খান। সেই পোস্টে পরিচালক ফিরে দেখেছেন ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর দীর্ঘ যাত্রা। তাঁর কথায়, ২০২২ সালের ১৮ জুলাই ছবিটির ঘোষণা হয়েছিল। এরপর প্রায় দু’বছর ধরে ছবিটি তৈরির যাত্রা তাঁদের কাছে হয়ে উঠেছিল অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা।
কবীর জানিয়েছেন, ছবিটি নিয়ে তাঁরা বরাবরই গর্বিত। আর ছবির ঘোষণার চার বছর পর জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে কার্তিকের সেরা অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন সেই দীর্ঘ যাত্রাকে পূর্ণতা দিয়েছে। তবে শুধু শুভেচ্ছাতেই থেমে থাকেননি পরিচালক। কার্তিকের এই জয় উদযাপনে ফিরে এসেছে শুটিংয়ের সময়কার এক মিষ্টি স্মৃতি। কবীর খান মজার ছলে লিখেছেন, কার্তিক সত্যিই শুধু ‘চন্দু’ নন, তিনি ‘চ্যাম্পিয়ন’। আর এমন জয়ের আনন্দে একটি নয়, দু’টি রসমালাই খাওয়া তো প্রাপ্যই! এই রসমালাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কার্তিকের কঠোর পরিশ্রমের গল্পও। ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এ প্যারাঅলিম্পিক সোনা জয়ী মুরলীকান্ত পেটকরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নিজের শরীরে আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন অভিনেতা। চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর ডায়েট ও প্রশিক্ষণের মধ্যে ছিলেন তিনি। এমনকি এক বছরেরও বেশি সময় চিনি ও মিষ্টি থেকে সম্পূর্ণ দূরে ছিলেন কার্তিক।
শুটিং শেষ হওয়ার পর সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান কবীর খান নিজেই। নিজের হাতে কার্তিককে তাঁর পছন্দের রসমালাই খাইয়েছিলেন পরিচালক। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর সেটিই ছিল অভিনেতার প্রথম মিষ্টি খাওয়া। সেই মুহূর্তে নিজের আনন্দের কথা সমাজমাধ্যমে জানিয়েছিলেন কার্তিকও। আজ সেই একই রসমালাইয়ের স্মৃতি যেন নতুন অর্থ পেয়েছে। যে ছবির জন্য নিজেকে কঠোরভাবে বদলে ফেলেছিলেন, সেই ‘চন্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর জন্যই জাতীয় পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পেলেন তিনি। তাই কার্তিকের এই সাফল্য শুধু একটি পুরস্কার জয় নয়, তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং স্বপ্নপূরণের এক মিষ্টি পরিণতিও বটে। কবীর খানের রসমালাই-উদযাপন তাই হয়ে উঠেছে কার্তিক আরিয়ানের জাতীয় পুরস্কার জয়ের সবচেয়ে আবেগঘন স্মৃতিগুলির অন্যতম।
