
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এমন কিছু সিনেমা রয়েছে, যেগুলি সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ তেমনই এক অনন্য ছবি। গুপীর গান, বাঘার ঢোল, ভূতের রাজার বর আর শুণ্ডি রাজ্যের রূপকথার আবহ—সব মিলিয়ে এই সিনেমা আজও বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্যতম অংশ। শুধু বাংলা নয়, বিশ্বের সিনেপ্রেমীদের কাছেও ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ চলচ্চিত্র নির্মাণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
১৯৬৯ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবির গল্প, চরিত্র, সঙ্গীত এবং উপস্থাপনা আজও দর্শকদের সমানভাবে আকৃষ্ট করে। গুপী ও বাঘার সরলতা, তাঁদের অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা এবং সংগীতের মাধ্যমে গল্প বলার ধরন ছবিটিকে বাংলা সিনেমার অন্যতম কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু এই কিংবদন্তি ছবি তৈরির পিছনে যে দীর্ঘ প্রস্তুতি, ভাবনা এবং নানা অজানা ঘটনা রয়েছে, সে বিষয়ে সাধারণ দর্শকের অনেকেরই বিস্তারিত জানা নেই। এবার সেই অজানা নেপথ্য কাহিনিই সিনেমার পর্দায় তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সত্যজিৎ রায়ের এই মাস্টারপিসকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে নতুন ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’। নামেই যেন ধরা রয়েছে ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর প্রতি নির্মাতার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।

নতুন এই ছবিতে মূলত কীভাবে সত্যজিৎ রায় ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর মতো একটি অনন্য সিনেমার ভাবনা তৈরি করেছিলেন এবং সেই ভাবনা কীভাবে ধীরে ধীরে বাস্তব রূপ পেয়েছিল, সেই নির্মাণ-ইতিহাসই উঠে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। অর্থাৎ, দর্শক এবার শুধু গুপী-বাঘার পরিচিত গল্প দেখবেন না, বরং সেই গল্পের জন্ম ও সিনেমা হয়ে ওঠার পিছনের ঘটনাগুলির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি এই ছবি তাই নিছক আরেকটি সিনেমা নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখার প্রয়াস। ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর সঙ্গে যাঁদের শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, তাঁদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যেও ‘মহারাজা তোমারে সেলাম’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের এই নতুন ভাবনা শেষ পর্যন্ত কীভাবে পর্দায় ফুটে ওঠে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।
