
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা সলমন খানের সমাজসেবামূলক সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য পরিচিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শুরু করে কোভিড পরিস্থিতিতেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংস্থা। তবে এবার সেই ‘বিয়িং হিউম্যান’-কেই ঘিরে তৈরি হয়েছে আইনি বিতর্ক। প্রতারণার অভিযোগে চণ্ডীগড়ের একটি আদালতে মামলা দায়ের হওয়ার পর সলমন খান ও তাঁর বোন আলভিরা খান অগ্নিহোত্রীকে সমন পাঠানো হয়েছে।
মামলাকারী অরুণ গুপ্তা, চণ্ডীগড়ের এক ব্যবসায়ী। তাঁর অভিযোগ, ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর নাম ব্যবহার করে গয়নার ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে তাঁকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। সেই বিশ্বাসে তিনি প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে একটি শোরুম খোলেন। ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর জুয়েলারি বিক্রির লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে তাঁর চুক্তি হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে বলে অভিযোগ তাঁর। অরুণের দাবি, শোরুম তৈরিতেই প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। ব্যবসা শুরু হলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা না মেলায় শেষ পর্যন্ত ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শোরুম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তিনি। এর ফলে তাঁর বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও আদালতে দাবি করেছেন। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং সলমন খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

অন্যদিকে, ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, অরুণ গুপ্তার সঙ্গে সলমন খানের কোনও প্রত্যক্ষ ব্যবসায়িক চুক্তি ছিল না। অভিনেতা শুধুমাত্র ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়েছিলেন। তাই এই আর্থিক লেনদেন বা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করা হয়েছে। মামলাকারী আরও অভিযোগ করেছেন, ‘বিগ বস’-এর শুটিং চলাকালীন সলমন খানের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। সেই সময় অভিনেতা শোরুম উদ্বোধনে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও পরে সলমন আর সেখানে যাননি। এই ঘটনাও প্রতারণার অংশ বলেই তাঁর অভিযোগ।
চণ্ডীগড় আদালত আগামী ৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। ওই দিন সলমন খান, আলভিরা খান অগ্নিহোত্রী এবং ‘স্টাইল অ্যান্ড কনটেন্ট জুয়েলারি প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সংশ্লিষ্ট কর্তাদের আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই মামলাকে ঘিরে সলমন খান বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
