
কলকাতা : শুধুমাত্র ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অজুহাতে কোনও ব্যক্তির রেশন পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এই কারণে যাদের রেশন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল, তা অবিলম্বে পুনরায় চালু করতে হবে।বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ মামলার শুনানিকালে জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিডিএস)-এর অধীনে খাদ্যশস্য বা রেশন পাওয়ার অধিকার হারিয়েছেন। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, খাদ্য সুরক্ষার অধিকার এবং ভোটাধিকার—এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা। একটির সঙ্গে অন্যটিকে জুড়ে দেখা সঠিক নয়।মামলার শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, এই বিষয়টির একটি ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এবং এর জন্য বিশদ আলোচনার প্রয়োজন। আগামী শুনানিতে রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর পরপরই রেশন দোকান থেকে তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে তাঁর রেশন সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।আদালতের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের ফলে আপাতত সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা রেশন সুবিধা পেতে থাকবেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পর যাদের রেশন পরিষেবা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, হাইকোর্টের এই রায়ে তারা বড়সড় স্বস্তি পেলেন।
