
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গত বিধানসভা নির্বাচনেও ‘খাম’ প্রতীকেই লড়াই করেছিল আইএসএফ। কিন্তু তার কয়েক মাসের মধ্যেই একটি উপনির্বাচনে কেন সেই প্রতীক আর আইএসএফের হাতে থাকবে না, বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে শুনানিতে সেই প্রশ্নই উঠল। একই সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালতের মন্তব্য, “আপনারা এমন সিদ্ধান্ত নেন কেন, যাতে বিতর্ক হয়।” আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। সেখানে নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফের প্রতীক বদলে দিয়েছে কমিশন। এত দিন ‘খাম’ প্রতীকে লড়া আইএসএফের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক। অন্য দিকে, ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করে আইএসএফ। বুধবারই এ বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিল আদালত।
বৃহস্পতিবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “চার মাস আগে একটি প্রতীক দিলেন। সেই দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করল। আর এখন উপনির্বাচনে দলের প্রতীক নিয়ে নিলেন? কেন আপনারা ওই প্রতীক সংরক্ষণ করলেন না? এটা কি ধরনের আচরণ? যেন নির্বাচন শুরু হল, আর খেলাও শুরু হয়ে গেল।” এ দিন এজলাসে আইএসএফের হয়ে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সওয়াল, কমিশন সব দলের জন্যই ‘খাম’ চিহ্নটি ফ্রিজ় করতে পারত। এমনটা হলে ভোটারেরাও বিভ্রান্ত হতেন না। তবে কমিশনের আইনজীবীর বক্তব্য, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে খাম প্রতীকটি ‘ফ্রি সিম্বল’ হিসেবেই ব্যবহার করেছে আইএসএফ।
কমিশনের আইনজীবী বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কমিশনের খাতায় এই রাজনৈতিক দল স্বীকৃত নয়। তাদের কোনও সংরক্ষিত প্রতীক নেই। এর আগে তাদের ‘ফ্রি সিম্বল’ দেওয়া হয়েছিল। এখনও তারা সেই প্রতীক নিতে পারে। তারা সংরক্ষিত প্রতীকের দাবি করতে পারে না। সংরক্ষিত প্রতীক শুধুমাত্র স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের।” তাতে আদালতের মন্তব্য, “আপনাদের নিয়মে থাকতেই পারে। আমার সেই নিয়মের মধ্যে যাচ্ছি না। মূল নির্বাচনে প্রতীক দেওয়া হলে কয়েক মাস পরে উপনির্বাচনে সেই প্রতীক থাকবে না কেন? এটা তো কোনও নতুন নির্বাচন নয়!” কমিশনের উদ্দেশে বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা সব সময় এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন কেন! পিঞ্চ করতে লিগ্যাল প্রসিডিং করেন? ১৮৩ টি প্রতীক আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয়, আপনারা সিদ্ধান্ত নেন… আর সব রাজনৈতিক দল আদালতে চলে আসে।” তাঁর সংযোজন, “উপনির্বাচনে কেন আপনারা অন্য দলের মতো এই প্রতীকও ফ্রিজ রাখলেন না? কমিশনের উচিত নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীক একটি দল ব্যবহার করেছিল সেটা বদলে গেল? এখন রুল, আইন দেখাচ্ছেন?”
এ দিনের শুনানিতে ঋতব্রতদের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত। ঋতব্রত তৃণমূলের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যকে আদালতের প্রশ্ন,“আপনারা যখন জানেন এটা অন্য দলের, আপনারাই বা কেন ‘খাম’ চাইলেন? তাতে আইনজীবী বলেন, “আমরা তিনটি প্রতীক দিয়েছিলাম। তার মধ্যে থেকে আমাদের প্রতীক ঠিক করে দেওয়া হয়।” আইএসএফের প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কেন কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তা-ও কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত। শুক্রবারের মধ্যে তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
