
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল সাংসদ। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে এই এফআইআর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানিকে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্রজেশ সিং। ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং আদালত অবমাননার মামলা চাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর তদন্ত রিপোর্ট ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের ১৪টি সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখেই জ্ঞানেশ ইচ্ছে মতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এর জেরে এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আবহে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশনের ভূমিকা। বিরোধীরা জ্ঞানেশের পদত্যাগও দাবি করেছেন। জ্ঞানেশ বেআইনি কাজ করেছেন, এই অভিযোগ তুলে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মহুয়া। তিনি বলেন, ‘এসআইআর-এর সময়ে ফর্ম ৬-এ নতুন করে জানতে চাওয়া হয়, নতুন ভোটারের বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমা গত এসআইআর-এর ভোটার তালিকায় ছিলেন কি না। কিন্তু বিধি না বদলে এ কাজ করা যায় না। তা সত্ত্বেও করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর-এ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা যে ১৬.১০ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, সেই নামের বিরুদ্ধে কারা আপিল করেছেন? তৃতীয়ত জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের ডিজি (আইটি) সীমা খান্নার সঙ্গে মিলে ভোটার তালিকা ইচ্ছেমতো বদলেছেন। বিএলও, ইআরও-দের অ্যাকসেস ডিনাই করে এই কাজ তাঁরা করেছেন।’
যদিও বুধবারই কমিশন দাবি করেছে, সমস্ত সিদ্ধান্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হয়েছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের যে ভিন্ন মত ছিল, তা অস্বীকার করেনি কমিশন। তবে কমিশনের বিবৃতিতে দাবি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় বিভিন্ন মত উঠে আসে। সেটা নির্বাচন কমিশনের মধ্যে মতবিরোধ নয়, সেটা প্রক্রিয়ারই স্বাভাবিক অঙ্গ।
