Breaking News

 

West Bengal

53 minutes ago

Rejinagar By Election 2026: প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা, প্রচারে মমতা-অভিষেককে ঘিরে জল্পনা! কী বললেন রবিউল?

Mamata Banerjee & Abhishek Banerjee
Mamata Banerjee & Abhishek Banerjee

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  পুজোর আগেই রাজ্যে বেজে উঠেছে ভোটের দামামা। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। এই দুই কেন্দ্রের প্রচারে কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে এতদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। এবার সেই জল্পনায় নিজেই ইতি টানলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, দলীয় বৈঠকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা জানিয়েছেন, জোড়াফুল প্রতীক না পেলে তিনি উপনির্বাচনের প্রচারে নামবেন না। ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের উপরই তাঁর প্রচারে অংশ নেওয়া অনেকটাই নির্ভর করছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

তৃণমূলের শাসনকাল ধূলিসাৎ করে ২০৭ আসনে রাজ্যে ক্ষমতা বর্তমানে বিজেপির দখলে। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরে বর্তমানে প্রতীক সংঘাত অব্যাহত। প্রতীক ঘিরে জটিলতার মাঝেই উপনির্বাচনে লড়াই নেমেছে তৃণমূলের দু’পক্ষই। বুধবার তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রার্থীরাই মনোনয়ন জমা দেন। সূত্রের খবর, এদিন মনোনয়ন পেশের আগে মঙ্গলবার কালীঘাটে নেত্রী মমতার সঙ্গে দেখা করে আশীর্বাদ নিতে যান রেজিনগরের তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। এদিন মনোনয়ন দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তরে জানান, “নেত্রী জানিয়েছেন, প্রতীক জট না কাটলে তিনি প্রচারে আসবেন না।” সূত্রের খবর, উপ-নির্বাচনের প্রচারে দেখা যাবে অভিষেককেও। উল্লেখ্য, তিনি বর্তমানে চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় আছেন। 

প্রসঙ্গত, প্রতীক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কালীঘাট এবং ঋতব্রত – দুই শিবিরের সঙ্গেই বৈঠক করেছে। কিন্তু জোড়াফুল প্রতীক কারা পাবে, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার ফের একবার দুই শিবিরের কিছু তথ্য জমা দেওয়ার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনে। তবে কমিশন এই প্রতীক নিয়ে আদৌ কবে সিদ্ধান্ত নেবে, তা কোনও পক্ষের কাছেই পরিষ্কার নয়। এই প্রেক্ষিতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক নিশ্চিত না জেনে দলীয় প্রচারের যেতে রাজি নন বলেই সূত্র মারফৎ জানা গেছে। অন্যিদকে, এদিন ঋতব্রত শিবিরের রেজিনগর কেন্দ্রের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখের মনোনয়নে অরূপ রায়, আখরুজ্জামানের মতো নেতাদেরে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে শুভেন্দুর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম আসনে ঋত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামূল হকের মনোনয়নে কর্মসূচিতে ছিলেন মদন মিত্র, স্নেহাশিস চক্রবর্তীরা।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দুই শিবিরের প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানির মাঝে নির্বাচনের মনোনয়নে যেখানে ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের পাশে দেখা গেল দলের হেভিওয়েট নেতাদের, অন্যদিকে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দলের উচ্চস্তরের উদাসীনতাও চোখে পড়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, এদিন নন্দীগ্রামে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধানের মনোনয়নে একমাত্র অখিল গিরি ছাড়া জেলার অন্যকোনও নেতাদের দেখা যায়নি। গতকালই হলদিয়ায় নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে মনোনয়ন পেশ করতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ভরাডুবির কথা মনে করিয়ে বলে গিয়েছিলেন, “উপনির্বাচনেও তৃণমূলের জমানয় জব্দ হতে চলেছে। ১৬ শতাংশ ভোটও পাবে না তৃণমূল কংগ্রেস।” সমালোচকরা প্রশ্ন, নির্বাচনী লড়াইয়ের আগেই কি পরাজয় মেনে নিয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল?

এদিকে, এদিকে, প্রতীক যুদ্ধের আবহেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’। এখন দেখার তৃণমূলের প্রতীক-জট কোন দিকে মোড় নেয়। প্রাক-উপনির্বাচন পর্বে সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। 

You might also like!