
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগের পর এখনও বাংলার ৩৭ জনের কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের মধ্যে চারটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীও রয়েছেন। একদিকে প্রিয়জনের সন্ধান না পাওয়ার উদ্বেগ, অন্যদিকে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের একটি নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারকে নিজের এক মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যেসব পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এখনও নিখোঁজ, সেই পরিবারগুলির এক জন করে সদস্যকে চাকরি দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার নবান্নে নিখোঁজদের পরিবারগুলির সমস্যা নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন। সেখানে বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও আলোচনা হয়েছে। প্রথমত, উত্তরবঙ্গের একটি পরিবারকে নিজের এক মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয়ত, চার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী নিখোঁজ হয়েছেন। সেই পরিবারগুলির একজন সদস্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তৃতীয়ত, প্রতি চারটি পরিবারের খেয়াল রাখার জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনও অসুবিধা হলে তাঁরা যোগাযোগ করবেন অফিসারদের সঙ্গে।
পাশাপাশি নিখোঁজদের পরিবার জানিয়েছে, সদস্যরা নিখোঁজ হওয়ায় তাঁরা ব্যাঙ্কের কাজ করতে পারছেন না। গ্যাস বুকিংয়ের মতো কাজ করা যাচ্ছে না। পেনশন তোলার মতো প্রক্রিয়া করা যাচ্ছে না। সরকার জানিয়েছে, নিয়ম মেনে ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছে। তবে কোনও উত্তর আসেনি। নিখোঁজদের পরিবারের তরফে নির্দিষ্ট সময়ের পর নিখোঁজদের মৃত বলে ঘোষণা করার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্যের অফিসারদের বক্তব্য, রাজ্য এমনটা করতে পারে না। কারণ বিষয়টি কেন্দ্রীয় ও নেপাল সরকারের ব্যাপার। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যেমন নির্দেশ মিলবে সেই মতো কাজ করা হবে। তবে রাজ্যের হাতে সাহায্য করার যে পরিধি রয়েছে সেই মোতাবেক তাঁদের পাশে দাঁড়ানো হবে।
