
ঔরাইয়া (উত্তর প্রদেশ), ৮ সেপ্টেম্বর : দিল্লির সত্য নিকেতনে পাঁচতলা পিজি ভবন ভেঙে পড়ে প্রাণ হারানো উত্তর প্রদেশের ঔরাইয়ার বাসিন্দা পবন কুমারের মৃতদেহ মঙ্গলবার সকালে তাঁর নিজ বাড়ি দিবিয়াপুরে পৌঁছায়। গত রাখীবন্ধনে যে ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে হাতে রাখি বেঁধেছিলেন চার বোন, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সেই একমাত্র ভাইয়ের নিথর দেহ ঘরে ফিরতেই শোকে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।
নিথর ভাইকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর চার বোন। অবসরপ্রাপ্ত হোমিওপ্যাথিক ফার্মাসিস্ট তথা পবনের বাবা বিশম্ভর সিং ছেলের শোক সহ্য করতে না পেরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পুরো পরিবারের এই হৃদয়বিদারক অবস্থা দেখে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরাও।
পবন দিবিয়াপুরের সরস্বতী বিদ্যা মন্দির ইন্টার কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর গত ২০ জুলাই দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শেষ হয়ে গেল তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।
পবনের বোন প্রিয়াংশীও গত বছর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেখানকার গার্লস হোস্টেলে রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং অনেকক্ষণ ভাইকে খোঁজাখুঁজি করেন। গভীর রাতে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতেই ভেঙে পড়েন তিনি। রাখীবন্ধন ও জন্মাষ্টমী উদযাপনের জন্য বাড়ি এসেছিলেন পবন। চার বোন মিলে তাঁকে রাখি পরান এবং পরিবারের সকলে একসঙ্গে উৎসব পালনের পর শনিবারই তিনি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছানোর পরের দিনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে সেই পাঁচতলা পিজি ভবন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পবনের মা মীরা দেবীর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকায় এবং তিনি অসুস্থ থাকায় তাঁকে এখনও ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতেন পবন। শনিবার দিল্লি পৌঁছানোর পরও মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। রবিবার সকালেও শেষবার কথা হয়, কিন্তু বিকেল থেকে আর ফোন না আসায় পরিবারের চিন্তা বাড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে দুর্ঘটনার খবর এসে পৌঁছায়। ঘটনার পর থেকেই শোকস্তব্ধ পরিবারকে সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
