
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস খালি করার জন্য দমকলের দেওয়া নোটিসে আপাতত স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্দেশ দিয়েছেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের পক্ষ থেকে যে জবাব দমকলকে দেওয়া হয়েছিল, সেটিই নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। সেই জবাব পর্যালোচনার পর ক্যামাক স্ট্রিটের সংশ্লিষ্ট অফিসে ফের পরিদর্শন করবে দমকল। পরিদর্শনে অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ধরা পড়লে, নিয়ম মেনে তৃণমূলকে ফের নোটিস দিতে পারবে দমকল।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিস খালি করতে দমকল বিভাগের দেওয়া নোটিশের উপর স্থগিতাদেশ দেয় আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও দমকল কর্তৃপক্ষকে ৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠি কার্যকর করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শুক্রবার তৃণমূল আবেদন শোনার পর রায়দান স্থগিত রেখেছিল কোর্ট। ১৬ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি দমকলের নোটিস খারিজ করে দেওয়া হয়। বুধবারের শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ জানায়, কালীঘাট তৃণমূলকে আবার নোটিস দিতে হবে দমকলকে। কবে আবার দমকল বিভাগ ওই অফিস পরিদর্শনে যাবে, তা জানাতে হবে নোটিসে। নোটিসে দিন তারিখ উল্লেখ করেই ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূল অফিসে যেতে হবে দমকল বাহিনীকে। অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষার জন্য ওই অফিসে কী কী গলদ রয়েছে, এবং তা সংস্কারে কী কী প্রয়োজন, তা কালীঘাট তৃণমূলকে জানাতে দমকলকেই। আর সেই নির্দেশিকা মেনে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরকে। ওই নির্দেশিকা না মানা হলে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে ফের আইনি মেনে ব্যবস্থা করতে পারবে দমকল।
৯, ক্যামাক স্ট্রিটের সাত ও আট তলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়। সেই অফিসে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে তীব্র বচসার অভিযোগ ওঠে। সেই আবহেই দমকল বাহিনী ওই অফিসে হানা দেয়। অফিস ঘুরে দেখে একটি নোটিস দেওয়া হয় মালিকপক্ষকে। দমকলের তরফে জানানো হয়, ওই ফ্লোরে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নেই, অফিসটি খালি করতে হবে। সেই নির্দেশেই অভিষকদের অফিস খালি করতে বলে মালিকপক্ষ। এরপরই ওই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় দমকল।
প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী কিশোর দত্তের সওয়াল করেছিলেন, “৯ ক্যামাক স্ট্রিটের সাত ও আট তলা লিজ নেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ২৬ আগস্টে লিজ বাতিল করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা হয়। এখন দমকল বিভাগ বলছে যে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ। অভিষেকদের বক্তব্য ছিল, এগুলি তো বাড়ির মালিকের দায়িত্ব। দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের পরেই বিচারপতি রাও দমকলের ওই নোটিসের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। বুধবারের শুনানিতে দমকলের নোটিসই খারিজ করল হাই কোর্ট।
