
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দলীয় প্রতীক নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে টানাপড়েন অব্যাহত। সেই আবহেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কালীঘাট শিবির। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ না করে মামলাটি সিঙ্গল বেঞ্চে ফেরত পাঠিয়েছিল ডিভিশন বেঞ্চ। একইসঙ্গে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য দুই মাসের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। আগামী ১৮ অক্টোবর সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই সোমবার সন্ধ্যায় এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছে কালীঘাট তৃণমূল। ফলে দলীয় প্রতীক নিয়ে চলা সংঘাত এবার আরও এক ধাপ গড়াল দেশের শীর্ষ আদালতে।
যার আবেদনকারী বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজে। কালীঘাট শিবির তাঁকেই প্রথম বিরোধী দলনেতা বেছেছিল। এ নিয়ে দলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলবিরোধী কাজের জন্য এর আগে যেভাবে সাংসদদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছিল, ঠিক একইভাবে বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজ করার আর্জি জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতে। ঋতব্রত ছাড়া এই তালিকায় রয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, আখরুজ্জামান, শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বিপ্লব মিত্র, জাভেদ খান এবং রথীন ঘোষের নাম। কল্যাণ বলেন, “প্রথমে এই ১০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে। বাকিদের আমরা কিছুটা সময় এবং অক্সিজেন দিতে চাইছি। যদি ভুল বুঝতে পেরে তাঁরা এখনও কালীঘাটে ফিরে আসতে চান, তবে দরজা খোলা রয়েছে। না ফিরলে তাঁদের পুরো রাজনৈতিক কেরিয়ারই ধ্বংস হয়ে যাবে।”
তবে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে একটি মামলা থাকাকালীন একই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে কল্যাণকে পালটা জবাবে ঋতব্রত বলেছেন, “কটা দিন অপেক্ষা করুন। কাকে কী অক্সিজেন দিচ্ছেন! বহিষ্কারের ফাঁদ পাতা ভুবনে। ধৈর্য ধরুন, টের পাবেন কে কার সাংসদ পদ-বিধায়ক পদ খারিজ করে। আপনার সঙ্গে থাকা বিধায়ক-সাংসদদের পদ থাকবে তো? একটু ধৈর্য ধরুন, জলের মতো সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
