
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। ফলে এবারের উৎসবকে ঘিরে যে একাধিক বিশেষ পরিকল্পনা থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। দেবীপক্ষের সূচনাতেই রাজ্যবাসীর জন্য বড় চমকের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো নবান্নেও চলছে প্রস্তুতি। এরই মধ্যে আরও একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। শুধু বেছে নেওয়া বড় পুজো কমিটির আমন্ত্রণেই নয়, সময় মিললে তুলনায় ছোট পুজোগুলিতেও সশরীরে হাজির হতে চান তিনি। বুধবার দলীয় স্তরে বিষয়টি জানান শুভেন্দু। অর্থাৎ সময় করে উঠতে পারলে বড় পুজোর পাশাপাশি ছোট পুজো কমিটির ডাকেও পৌঁছে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিজেপি সূত্রে খবর, কলকাতা ও শহরতলির যে সব পুজো উদ্বোধনের জন্য দলের তরফে তাঁর কাছে অনুরোধ পৌঁছবে, অল্প সময়ের জন্য হলেও সেগুলি প্রতিটিতেই যাওয়ার চেষ্টা করবেন বলে দলকে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভারচুয়ালি নয়, সশরীরে পুজোমণ্ডপে হাজির হয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামিল হবেন তিনি। পুজো উদ্বোধনের জন্য যে আমন্ত্রণগুলি আসছে, সেগুলির তালিকা তৈরি করতেও নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার বিধাননগরে রাজ্য বিজেপির দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরেই দলীয় কার্যালয়ে বসে সঙ্গে থাকা আধিকারিকদের নির্দেশ দেন ক্লাবগুলির নাম নথিভুক্ত করতে। এদিনই তিনি জানিয়ে দেন তথাকথিত ‘বিগ বাজেট’ বৃত্তের বাইরের পুজোগুলিতেও তিনি হাজির থাকবেন।
গত বছর পর্যন্ত শহর হোক বা শহরতলির বড় পুজো কমিটিগুলির অধিকাংশই ছিল তৃণমূলের দখলে। রাজ্যের ‘বিখ্যাত’ পুজোর উদ্বোধনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আহ্বান জানানো হত। শহরের এক একাধিক পুজোর উদ্বোধনে তিনি সশরীরে গিয়ে ফিতে কাটলেও, শহরতলি বা জেলার পুজোর উদ্বোধন সারতেন ভারচুয়ার মাধ্য়মেই। তবে পরিবর্তনের বঙ্গে দুর্গোৎসবের ছক ভাঙছে এবার। বাজেটে ‘বড়’দের পাশাপাশি এবার ‘ছোট’রাও প্রাধান্য পেতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায়। শুধু তাই নয়, মমতার আমলে পিতৃপক্ষে উদ্বোধন দেখেছে বাংলা। এবার যে তা হবে না, তা পুজো অনুদান ঘোষণার দিনই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
