
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গেরুয়া পোশাক, হাতে গেরুয়া পতাকা। বুধবার দুপুরে কার্যত গেরুয়া রঙে ঢেকে গেল যাদবপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা। গেরুয়া ঝান্ডা হাতে মিছিলে পা মেলালেন সাধু-সন্তরা। গোলপার্ক থেকে এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত দীর্ঘ মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে পথে নামলেন শয়ে শয়ে সাধু-সন্ন্যাসী। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনিতে গোটা যাদবপুর সাক্ষী থাকল এক আধ্যাত্ম-সনাতনের প্রতীক ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’র সাক্ষী থাকল। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বর্ণ নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। হিন্দু-সনাতন আর স্বামী বিবেকানন্দকে একসুতোয় গাঁথতে নজিরবিহীন মিছিল হল শহরের রাস্তায়। যে মিছিলে কপালে গেরুয়া তিলক ধারণকারী সাধু সন্তদের কসরত, ডমরু হাতে নাচ, দফায় দফায় উঠল ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান।
গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় আড়াই-তিন কিলোমিটারের গেরুয়া মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী পাশে দেখা গিয়েছেন রাজ্যে পরিবহণ মন্ত্রী তাপস রায়কেও। উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ও। শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক পাশেই মিছিলে হাঁটেন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ। সঙ্গে ছিলেন শয়ে শয়ে সাধু-সন্তরা। গেরুয়া মিছিল যাদবপুর পৌঁছতেই ‘বন্দে মাতরম’ গানে অংশ নেন সকলে। এরপরেই যাদবপুরের মঞ্চ থেকে ‘দেশবিরোধী’দের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “গেরুয়ার অপমান সহ্য করব না। পরিষ্কার বার্তা দিয়ে গেলাম। যাদবপুর থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, রেড স্যালুট কী করে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানে।” সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, রাজ্যে তিন দিন ব্যাপী বেদ পাঠের আসর হতে চলেছে। রাজ্যবাসীকে সেই সম্মেলনে যোগদানের আহ্বানও জানিয়েছেন শুভেন্দু। আরও দু’বার যাদবপুরে আসবেন বলে এদিন মঞ্চ থেকেই সাফ বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “দেশে যারা গেরুয়াকে অপমান করছেন তাদের শিক্ষা দিতে গীতাপাঠ, আরেকবার হনুমান চল্লিশা পাঠা করতে আসব। শপথ নিয়েছি যাদবপুরে যেখানে সেন্টার অফ এক্সিল্যান্স, ঋষি অরবিন্দের ভূমি থেকে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, কিষাণ জিকে সেলাম করেছেন যাকা, তাদের শিকড়-সহ উপড়ে ফেলব। যাদবপুরে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঙ্কার, “এটা স্বামী বিবেকানন্দের ভূমি, এখানে গেরুয়াই থাকবেই।”
