
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আগে রাজ্যের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন। তার আগেই দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল। শনিবার কমিশনের শুনানিতে দুই পক্ষই নিজেদের নাম ও ঘাসফুল প্রতীকের দাবির পক্ষে যুক্তি পেশ করেছে। দু’পক্ষই নিজেদের দাবির বিষয়ে আশাবাদী। তবে উপনির্বাচনের আগে কমিশন যদি কোনও পক্ষের দাবির পক্ষে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারে, সেক্ষেত্রে ঘাসফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন রয়েছে আগামী ৬ অক্টোবর। গণনা ৯ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। সেই ভোটে ঘাসফুল প্রতীকে কারা লড়বে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। এই প্রেক্ষিতেই ‘তৃণমূল’ নাম, ‘ঘাসফুল’ প্রতীক এবং সংগঠনের রাশ কাদের হাতে থাকবে, তার ফয়সালা করতে শনিবার দিল্লি পৌঁছে গিয়েছিল যুযুধান দুই শিবির।ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশী আলাদা করে দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রথমে ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষ থেকে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে যান ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান এবং তাঁদের আইনজীবী। ঘণ্টা খানেক বাদে সেখান থেকে বেরিয়ে ঋতব্রত কালীঘাটপন্থীদের একহাত নিয়ে জানান, শুধু মমতার কথায় দল চলত। নথিপত্রের পরোয়াই করা হত না। তাঁর বক্তব্য, এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। কমিশনের দফতরের বাইরে ঋতব্রতের মন্তব্য, ‘‘ভিতরে যা বলেছি তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি’ (খাতা নেই, বই নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন, সেটাই ঠিক)— এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পার্টি।’’ তিনি জানান, তাঁদের তথ্যভিত্তিক বক্তব্য কমিশনকে জানিয়েছেন। এখন কমিশনের বিচার্য বিষয়। তবে তৃণমূল নাম এবং ঘাসফুল প্রতীক পেতে তাঁরা আশাবাদী।ঋতব্রতেরা দুপুর ১২টা নাগাদ বেরিয়ে যাওয়ার পর কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাকেত গোখলেরা ঢোকেন কমিশনের দফতরে। সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ পরে বলেন, ‘‘প্রায় দু’ঘণ্টা কথাবার্তা হয়েছে। ওরা (কমিশন) যা জানতে চেয়েছে, তথ্য চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।’’ কল্যাণের ইঙ্গিত, ‘‘হতে পারে কমিশন অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দেবে। কী নির্দেশ দেয় দেখে নিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করব।’’
পাশাপাশি ঋতব্রতের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ কটাক্ষের জবাবে শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেছেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই দল তৈরি করেছিলেন। নিজে জোড়াফুল এঁকেছিলেন। তা থেকেই দলের প্রতীক তৈরি হয়। যাঁরা এখন বিদ্রোহ করছেন, কয়েক মাস আগে তাঁরাই মমতাদির আঁকা ওই প্রতীকে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাই তাঁদের গুরুত্ব না দেওয়াই ভাল।’’কমিশনের একটি সূত্রে খবর, ঋতব্রত শিবির কমিশনের হাতে বেশ কিছু নথি দিয়েছে। সেখানে রয়েছে তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটি কী ভাবে চলত, এখন কী ভাবে চলে, বৈঠকের কার্যবিবরণী ইত্যাদি। যদিও ঋতব্রত এ নিয়ে কিছুই বলতে চাননি। উভয় তরফেরই পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিকে ডেকে বৈঠকে কী কী নিয়ে আলোচনা হল, কমিশনও তা নিয়ে বিশদে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।প্রতীক-যুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে? উপনির্বাচনের আগে ফয়সালা কি হবে? কল্যাণ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতেই পারে কমিশন। সেটা না হলে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞেরা। কারও মতে, ফয়সালা পর্যন্ত কমিশনের তরফে ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হতে পারে জোড়াফুল প্রতীক। সে ক্ষেত্রে উপনির্বাচনে লড়ার সময় দু’পক্ষকেই অস্থায়ী নাম এবং প্রতীক নিতে হবে কমিশনের কাছ থেকে।
আবার যদি ঋতব্রত শিবির প্রতীক পেয়ে যায়, তখন কালীঘাট তৃণমূলকে অন্য প্রতীকে নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে লড়তে হবে। জল্পনা, কালীঘাট তৃণমূল বিকল্প প্রতীক নাকি ভেবেও রেখেছে। তবে প্রতীক-যুদ্ধে যারাই জিতুক, অন্য পক্ষ যাবে সুপ্রিম কোর্টে। শেষ সম্ভাবনা, দুই শিবিরকে আরও নথি জমা দিতে বলতে পারে কমিশন। সে ক্ষেত্রে আপাতভাবে সুবিধা হবে কালীঘাট তৃণমূলের। তখন তারাই জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে।বলাই বাহুল্য, ফলাফল যা-ই হোক, এই যুদ্ধের শেষ দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং দীর্ঘকালীন হতে পারে।
