
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই স্মৃতিমেদুর বাংলা বিনোদনজগৎ। টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশন চত্বরে মহানায়কের মূর্তিতে মাল্যদান ও শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক প্রথম সারির তারকা। দেব, জিৎ, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রঞ্জিত মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-সহ বহু শিল্পী ও বিশিষ্টজন এ দিনের অনুষ্ঠানে শামিল হন।
অনুষ্ঠান শুরুর কিছুক্ষণ আগেই সেখানে পৌঁছন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। মহানায়কের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম করেন অভিনেত্রী। তবে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি এ দিন তাঁর সাজও বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে। মেরুন রঙের লম্বাহাতা ব্লাউজের সঙ্গে ঘিয়েরঙা শাড়িতে দেখা যায় তাঁকে। শাড়ির পাড়জুড়ে ছাপা ছিল উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেনের জনপ্রিয় জুটির ছবি। এমনকি শাড়ির আঁচলেও ফুটে উঠেছিল তাঁদের কালজয়ী ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’ গানের দৃশ্য। মহানায়ক ও মহানায়িকার হাসিমুখের সেই চেনা মুহূর্ত যেন এ দিন অভিনেত্রীর পোশাকেই ফিরে আসে।
উত্তমকুমারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ দিন টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক, পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, গৌতম ঘোষ, সুদেষ্ণা রায়-সহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী-সহ একাধিক বিধায়কও। মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এ দিনের অনুষ্ঠানে প্রথমে উত্তমকুমারের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক নিবেদন করেন অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী-সহ উপস্থিত অভিনেতা-অভিনেত্রী ও বিশিষ্টজনেরা মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপনের এই দিনটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, গোটা দেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক জগতের কাছেই গর্বের। মহানায়ককে ঘিরে একাধিক কর্মসূচির কথাও জানান তিনি।

উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী কয়েক দিন ধরেই নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার নন্দনে এই উদ্যাপন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব, জিৎ, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, যিশু সেনগুপ্ত-সহ উত্তমকুমারের পরিবারের সদস্যেরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে টানা চার দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদ্যাপন করা হবে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মহানায়ককে স্মরণ করা নয়, তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আগামী একশো বছর পরেও যাতে উত্তমকুমার একই ভাবে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন এবং নতুন প্রজন্ম তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই কয়েক দিনব্যাপী এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন।
