
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জোটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় জাতীয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূল নেত্রী জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবে না তাঁর দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, “ভবিষ্যতে সংসদের ভিতরে বা বাইরে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে থাকবে না তৃণমূল কংগ্রেস।” তাঁর এই ঘোষণার ফলে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপিকে রুখতে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জোটের প্রস্তাব দিয়ে বেশ কিছুদিন আগে দিল্লিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে ফোন করেন স্বয়ং মমতাই। কিন্তু এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল পরে তৃণমূলের এক সাংসদকে জানিয়ে দেন, স্থানীয় স্তরে বাংলার কংগ্রেস কর্মীরা জোটের প্রস্তাব মানতে নারাজ। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি কংগ্রেস কেবল তাদের স্থানীয় নেতাদের কথাতেই চলে, তবে সংসদেও তাদের সঙ্গে একযোগে চলার কোনও বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।” প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, “এখন দু’টি আসনে আগে আমাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক তৃণমূল। এখান থেকে শুরু হোক। আরও অনেক লড়াই হবে আগামিদিনে, তখন দুই দলের জোটের বিষয় নিয়ে দেখা যাবে।”
উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাব্বিশের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে লড়াই করেন। দুই বিধানসভা আসনেই জিতেন তিনি। নিয়ম অনুসারে একটি আসন ছাড়তে হত তাঁকে। সেই মোতাবেক নন্দীগ্রাম ছাড়েন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপনির্বাচন। এই আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছে, খুন হওয়া শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হাসিরানি রথকে। অন্যদিকে, রেজিনগর ও নওদা আসনে জিতেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর আসন ছাড়েন তিনি। সেখানে বিজেপি প্রার্থী করেছে শাখারফ সরকারকে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলও দু’টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন সঞ্চিতা প্রধান দে। রেজিনগরে প্রার্থী হয়েছেন রবিউল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে কংগ্রেসেও দুটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছেন ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান। রেজিনগর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি।
