
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: এক তরুণীর মৃত্যু, দীর্ঘ তদন্ত এবং তার মাঝেই বার বার সামনে আসছে প্রমাণ সংরক্ষণের বিষয়টি। প্রয়াত অভিনেত্রী জিয়া খানের মা রাবিয়া খান এ বার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুকাণ্ড প্রসঙ্গে সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন। দিশার মৃত্যুর ঘটনায় সিবিআইয়ের দায়ের করা এফআইআরে সূরজ পঞ্চোলীর নাম উঠে আসার পরই রাবিয়ার এই মন্তব্য সামনে এসেছে। তবে কাউকে সরাসরি অভিযুক্ত করেননি তিনি।
রাবিয়ার বক্তব্য, কয়েক বছর আগে ঘটে যাওয়া আর এক তরুণীর মৃত্যুর তদন্তে যে নাম উঠে এসেছিল, একই নাম দিশা সালিয়ানের ঘটনাতেও সামনে আসা তাঁকে গভীর ভাবে ব্যথিত করেছে। তাঁর মতে, বিষয়টি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তদন্তের সঙ্গে যুক্ত সকলের কাছেই উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত। তবে রাবিয়ার বক্তব্যের মূল জায়গা হল—প্রমাণ। তাঁর দাবি, কোনও মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ যদি নষ্ট হয়ে যায়, হারিয়ে যায় কিংবা কোনও ভাবে পরিবর্তিত হয়, তা হলে সত্যের কাছে পৌঁছনোর পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত নতুন করে শুরু হলেও প্রমাণের ঘাটতি তদন্তের পরিধিকে সীমিত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের মেয়ে জিয়া খানের মৃত্যুর তদন্তের অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন রাবিয়া। তাঁর বক্তব্য, প্রমাণের অভাব কী ভাবে একটি মামলার সত্য উদ্ঘাটনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা তাঁর নিজের রয়েছে। দিশার মামলায় হাই কোর্টে উঠে আসা ‘গুরুতর অসঙ্গতি’র প্রসঙ্গও তিনি সামনে এনেছেন। রাবিয়ার মতে, প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা যায় না। কিন্তু তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণই যদি সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যায় বা নষ্ট হয়ে যায়, তা হলে তদন্তকারীদের হাতে সত্য যাচাইয়ের সুযোগও কমে যায়। তাঁর প্রশ্ন, এই ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না।
এ প্রসঙ্গেই নিজের মেয়ে জিয়ার মৃত্যুর ঘটনাও ফের স্মরণ করেছেন রাবিয়া। জিয়ার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হলেও তাঁর প্রশ্ন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে আদৌ যথেষ্ট তদন্ত হয়েছিল কি না। দিশার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন সামনে আসছে বলে মনে করছেন তিনি। ২০১৩ সালের ৩ জুন মুম্বইয়ের বাড়ি থেকে ২৫ বছর বয়সি জিয়া খানের দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হয়। তাঁর তৎকালীন প্রেমিক সূরজ পঞ্চোলীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগও ওঠে। পরে ২০২৩ সালে বিশেষ সিবিআই আদালত প্রমাণের অভাবে সূরজকে বেকসুর খালাস করে। তবে মেয়ের মৃত্যু নিয়ে রাবিয়ার অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাঁর দাবি, জিয়ার মৃত্যু আত্মহত্যা নয় এবং এর পিছনে অন্য কোনও সত্য থাকতে পারে।
দিশা সালিয়ানের মৃত্যুকাণ্ডে সূরজ পঞ্চোলীর নাম ফের সামনে আসার পর সেই পুরনো প্রশ্নই নতুন করে তুলেছেন রাবিয়া। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে কোনও মামলার নির্দিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছনো কঠিন—এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে তাঁর মূল প্রশ্ন, সত্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলি যদি সংরক্ষিতই না থাকে, তা হলে তদন্ত কতটা এগোতে পারবে?
