
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মঞ্চে সম্মানিত হওয়ার পরও মুক্তির মুখ দেখতে পারছে না পরিচালক অনুপর্ণা রায়ের ছবি ‘সংগস অফ ফরগটেন ট্রিজ’। ৮২তম ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের ‘অরিজন্তি’ বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছিল ছবিটি। সাদা-লালপাড় শাড়ি পরে ফরাসি পরিচালক জুলিয়া ডুকুরনোর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন অনুপর্ণা। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরেও এবার সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে পড়েছে তাঁর ছবি। পরিচালকের দাবি, সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছবিটির বিষয়বস্তু সমাজের জন্য ‘মোটেও ভালো নয়’। সেই কারণেই ছবিটিকে মুক্তির ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অনুপর্ণা।
‘সংগস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ মূলত মুম্বইয়ে বসবাসকারী দুই মহিলার জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবিতে অভিনয় করেছেন নাজ শেখ ও সুমি বাঘেল। ছবিটির প্রযোজক বিভাংশু রায়, রোমিল মোদি এবং রঞ্জন সিং। ছবিটির প্রেজেন্টার অনুরাগ কাশ্যপ। তবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে পরিচিতি পাওয়ার আগেই অনুপর্ণার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুরুলিয়ার মাটি। নিতুড়িয়ার সরবড়ির কাছে নারায়ণপুরের একসময়ের বাসিন্দা অনুপর্ণাকে এলাকার মানুষ এখনও ‘মাম্পি’ নামেই চেনেন। নিতুড়িয়ার রানিপুর হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। মাধ্যমিকে ফার্স্ট ডিভিশন না পাওয়ায় বাবা-মা তাঁকে ইংরেজির শিক্ষক মামা নীলোৎপল সিংহের কাছে পাঠিয়ে দেন। সেই সিদ্ধান্তই যেন বদলে দেয় কিশোরী অনুপর্ণার জীবন। মামার হাত ধরে ইংরেজি সাহিত্য, ভারতীয় সংস্কৃতি এবং জীবনকে দেখার এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। পরবর্তীতে গতানুগতিক পেশাগত পথ থেকে সরে এসে দু’টি নামী কর্পোরেট সংস্থার চাকরিও ছেড়ে দেন। এরপরই সিনেমা তৈরির কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করেন।
পুরুলিয়ার পুঞ্চার ন’পাড়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও গভীর। যে মামার বাড়িতে থেকে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা করেছিলেন, সেই অজপাড়া গ্রামের বিভিন্ন ল্যান্ডস্কেপেই ২০২১ সালে নিজের প্রথম ছবির শুটিং শুরু করেন অনুপর্ণা। ২০২৩ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম ছবি ‘রান টু দ্য রিভার’। এরপর দ্বিতীয় ছবি ‘সংগস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ তাঁকে পৌঁছে দেয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ভেনিসে। সেখানেই সেরা পরিচালকের পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। একদিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অন্যদিকে দেশে সেন্সর বোর্ডের আপত্তি—অনুপর্ণার দ্বিতীয় ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জানা যায়, ২০২৩ সালে কালীপুজোর সময় শেষবার মামার বাড়ি পুঞ্চার ন’পাড়ায় গিয়েছিলেন অনুপর্ণা। পুরুলিয়ার সেই প্রত্যন্ত গ্রামের সঙ্গে তাঁর জীবনের যে যোগ, তা তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণের পথচলাতেও বিশেষ ছাপ ফেলেছে।
