
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেতা ও সাংসদ রবি কিশন। তাঁর বক্তব্য, বাচনভঙ্গি, নাচ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও ঘিরে একের পর এক মিম ও রিল ছড়িয়ে পড়েছে নেটদুনিয়ায়। তবে মজার বিষয় হল, এই ভাইরাল ট্রেন্ড সম্পর্কে অভিনেতা নিজেই নাকি তেমন কিছু জানেন না। সম্প্রতি নিজের নতুন ছবি ‘মা বেহেন’-এর প্রচারে এসে রবি কিশন বলেন, “মহাদেবের দিব্যি খেয়ে বলছি, আমি নিজেও জানি না কেন আমি এভাবে ভাইরাল হয়ে যাই।” তাঁর এই মন্তব্যও মুহূর্তের মধ্যে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের মতে, রবি কিশনের স্বতন্ত্র কথা বলার ধরনই তাঁকে বারবার ভাইরাল করে তুলছে।
এই জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে উদ্যোক্তা রাজ শমানি-র পডকাস্টে দেওয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকার। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— টাকার চেয়ে পরিচিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ কি না। উত্তরে রবি কিশনের জবাব ছিল, “পেহচান, মানি ফলোজ, মাই ব্রাদার।” অর্থাৎ, খ্যাতিই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড়, কারণ অর্থ নিজে থেকেই আসে। এই সংলাপই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার অসংখ্য মিম ও রিলের মূল উপাদান হয়ে উঠেছে। শুধু এই বক্তব্যই নয়, একই পডকাস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে নিয়ে বলা একটি ঘটনার কথাও নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রবি কিশনের দাবি, একবার তিনি মোদীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাত ধরে বলেন, “ভারত কখনও ঝুঁকবে না।” এই মন্তব্য নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়েছে, তেমনই অনেকেই বিষয়টিকে হাস্যরসের সঙ্গেও দেখেছেন। এদিকে, রবি কিশনের নাচ এবং গান গাওয়ার বিভিন্ন ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। কেউ তাঁকে মজা করে ‘বিহারের টম ক্রুজ’, আবার কেউ ‘বিহারের জাস্টিন বিবার’ বলে উল্লেখ করছেন। তাঁর অভিব্যক্তি ও উপস্থাপনার ভঙ্গি নিয়েও নেটিজেনদের মধ্যে চলছে নানা ধরনের ট্রোল ও হাস্যরস।

উল্লেখ্য, রবি কিশন শুধু ভোজপুরি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকাই নন, তিনি হিন্দি, তেলুগু, কন্নড় ও তামিল ছবিতেও অভিনয় করেছেন। ‘তেরে নাম’, ‘বটলা হাউস’, ‘লাপতা লেডিজ’ এবং ওয়েব সিরিজ ‘খাকি: দ্য বিহার চ্যাপ্টার’-এ তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয়। ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাংসদ হন। বর্তমানে রবি কিশনের ‘মাই ব্রাদার’ সংলাপ থেকে শুরু করে তাঁর নাচ, বক্তব্য ও অভিব্যক্তি— সবই সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ডিং কনটেন্টে পরিণত হয়েছে। যদিও এই ভাইরাল জনপ্রিয়তা নিয়ে অভিনেতা নিজেই বিস্মিত, তবে নেটদুনিয়ার হাসি-ঠাট্টার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এখন তিনিই।
