
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ইন্দোরে ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিমিক্রি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান পুলকিত মণি প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার ধরন, অঙ্গভঙ্গি এবং বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের ভঙ্গি অনুকরণ করেন। সেই সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরই তা নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ভিডিওতে দেখা যায়, পুলকিত মণি মঞ্চে উঠে মোদির ভঙ্গিতে কথা বলছেন। বিদেশনীতি এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলিঙ্গনের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর পরিবেশনায়। প্রধানমন্ত্রীর ইংরেজি বলার ধরন নিয়েও রসিকতা করতে দেখা যায় তাঁকে। পাশাপাশি, কোনও অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এক প্রবীণ মহিলাকে বসার জন্য চেয়ার এগিয়ে দেওয়ার ঘটনাকেও মিমিক্রির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাহুল গান্ধী সেই পরিবেশনায় অংশ নেন এবং হাসতেও দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিজেপির একাধিক নেতা কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন ব্যক্তিকে নিয়ে এই ধরনের পরিবেশনা এবং মঞ্চে তা নিয়ে হাসাহাসি রাজনৈতিক শালীনতার প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের তরফে ঘটনাটিকে মিমিক্রি ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে দুই দলের মধ্যে নতুন করে বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
এরই মধ্যে এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন অভিনেতা সুনীল লহরী। ‘রামায়ণ’ ধারাবাহিকে লক্ষ্মণের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত এই অভিনেতা একটি ভিডিওবার্তায় ইন্দোরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে নিজের আপত্তির কথা জানান। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হাস্যরসের সময় তাঁর পদ ও মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। সুনীল লহরীর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ভাষা, সংস্কৃতি এবং সামাজিক রীতিনীতির প্রসঙ্গ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও রাষ্ট্রনেতা নিজের মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখলে সেটিকে কেন ইংরেজি না জানার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তাঁর মতে, বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রনেতাই নিজেদের মাতৃভাষায় বক্তব্য রাখেন এবং ইংরেজি শুধুমাত্র একটি ভাষা।
প্রধানমন্ত্রীর আলিঙ্গনের রীতির প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্য রাখেন সুনীল। তাঁর দাবি, আলিঙ্গনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে আলোচনা না করে সেটিকে শুধুমাত্র হাসির বিষয় হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। একইভাবে কোনও সভায় কোনও প্রবীণ মানুষকে বসার জন্য চেয়ার দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি মানবিক আচরণ হিসেবে দেখার পক্ষে মত দেন। সুনীল লহরী আরও বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে মতপার্থক্য ও সমালোচনা স্বাভাবিক হলেও ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধকে ঘিরে রসিকতার ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা থাকা প্রয়োজন। তাঁর এই বক্তব্যও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, ইন্দোরের ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ অনুষ্ঠানের একটি মিমিক্রি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। একদিকে বিজেপির তরফে অনুষ্ঠানটির সমালোচনা, অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে রাজনৈতিক ব্যঙ্গের পক্ষে অবস্থান—দুই পক্ষের বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে সরগরম জাতীয় রাজনীতি।
