
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ২৯ মার্চ, ২০২৬। সাগরের নোনা জলে তলিয়ে গিয়েছিল বাংলার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর প্রায় পাঁচ মাস পর, অগস্টের দিকে রাহুলের বাইকে বসে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত। সেই পোস্টেই নিজেকে রাহুলের ‘প্রেমিকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। মৌমিতার এই দাবি ঘিরে অবশ্য কম বিতর্ক হয়নি। নিজেকে রাহুলের স্বঘোষিত প্রেমিকা হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি ইন্ডাস্ট্রির একাংশ। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, মানসী সিনহা, অভিনেতা জয়জিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়, একাধিক পরিচিত মুখ মৌমিতার এমন মানসিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক দিন আগে ফের রাহুলকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট করলেন মৌমিতা। ফলে পুরনো বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
মৌমিতার দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগের মুহূর্তেও দুজনের কথা হয়েছিল। রাহুলের সঙ্গে অনেকদিন সম্পর্কে ছিলেন। সেইসময় তাঁকে বলা রাহুলের কথাগুলো বাস্তবায়িত করার প্রচেষ্টায় রয়েছেন মৌমিতা। সেটা কী কেমন? পরনে শাড়ি, গলায় নেকলেস আর হালকা মেকআপে ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘অরুণোদয় বলেছিল তুমি ঐশ্বর্য হতে পারবে না। তবে মৌমিতার সেরা ভার্শন নিশ্চয়ই হতে পারবে। সেই চেষ্টাই চলছে।’ পুজোর আবহে প্রেমের টান অনুভব করছেন মৌমিতা! মৌমিতার পোস্ট অনুযায়ী, রাহুল তাঁর সৌন্দর্যের কদর করতেন। রাই সুন্দরী হওয়া সম্ভব না হলেও নিজের সেরা ভার্শন হয়ে উঠতেই পারেন। আগস্টে মৌমিতা রাহুলকে নিয়ে পোস্ট করতেই সহানুভূতির বদলে জুটেছিল শুধুই কটাক্ষ। ‘ধান্দাবাজ’, ‘নোংরা মহিলা’র মতো বিশেষণও জুড়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর নামের সঙ্গে।

সাম্প্রতিক পোস্টে এখনও পর্যন্ত সিনে ইন্ডাস্ট্রির সতীর্থ বা পরিচিতমহলের কোনও মন্তব্য নজরে আসেনি। রাহুল-মৌমিতার প্রেম কাহিনি সত্যি নাকি প্রচারের আলোয় আসতে প্রয়াত অভিনেতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন মৌমিতা? এই প্রশ্নে যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল তখন নীরবতা ভেঙেছিলেন অভিনেত্রী। সমালোচকদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে খোলা চিঠি লেখেন মৌমিতা। সেই সঙ্গে পরিচিতদের জন্য পোস্টের প্রায় প্রতিটি ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছিল অনুশোচনা। নিন্দুকের জন্য ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মৌমিতা বলেছিলেন, ‘এত তাড়া কিসের তোমাদের আমাকে নোংরা প্রমাণ করার? প্রয়োজনে সামনে এসে কথা বলুন।’
