West Bengal

58 minutes ago

CM Suvendu Adhikari : ২০ কোটি ব্যয়ে মূর্তি নদীর উপর সেতু,পুজোর আগেই বন্ধ চা বাগান খোলার উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রীর

CM Suvendu Adhikari
CM Suvendu Adhikari

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: নাগরাকাটার সঙ্গে জলপাইগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সংযোগ তৈরি হল মূর্তি নদীর উপর নির্মিত সেতুকে ঘিরে। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি এই সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে আরও দু’টি সেতু তৈরির কাজ চলছে।এ ছাড়াও গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কালীখোলা ব্রিজ পুনর্নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দ্রুতই ওই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। নতুন সেতু চালু হওয়ায় নাগরাকাটা ও জলপাইগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ারে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সফরের অর্ন্তগত জলপাইগুড়িতে মূর্তি নদীর উপর সেতুর উদ্বোধন করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রায় ২০ কোটি ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণ করা হল। আরও ২টি ব্রিজ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে কালীখোলা বিজ্রের উপর যে সেতুটি ভেঙে গিয়েছিল। সেটির কাজের অনুমোদন দিয়ে গেলাম। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।”

শুধু মাত্র চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে রাজ্য ৩৩০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। নতুন সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সেই কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ চা বাগান খোলা থেকে পুজোর মরশুমে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস সব নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।জলপাইগুড়িতে সেতুর উদ্বোধনের আগে কোচবিহারের মদনমোহন মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে আরতি করেন। বেরিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, “এক বছরের মধ্যে কোচবিহারবাসীর সব চাওয়া পূর্ণ হবে। সড়ক, রাজ্য, রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে। এখানে দু’ধরনের পর্যটক আসে। একদল প্রকৃতি দেখে। অন্যদল বিভিন্ন মন্দির দর্শন করেন। তাঁদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। সব কাজ হবে।”

নারী সুরক্ষার উপর জোর দেওয়ার কথা আবার শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গলায়। শুধু তা-ই নয়, পকসো মামলায় তাঁর সরকার যে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। পুলিশকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ছোট বাচ্চা হোক বা বোন-দিদি-মহিলা, কেউ যদি তাঁদের দিকে আঙুল তোলেন, তবে সেই আঙুল ভেঙে দিতে হবে। এই সব ক্ষেত্রে পুলিশ যা করার করবে।

বছরখানেক আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু গিয়েছিলেন কোচবিহারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করতে। সেই সময় খাগড়াবাড়ি মোড়ে তাঁর কনভয়ে হামলা হয়। ভাঙচুর হয় তাঁর বুলেটপ্রুফ গাড়ি। সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। ভগবান আছেন। আর আছে জনগণ।’’ কোচবিহারকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

চলতি মাসের ২৮ তারিখই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় অসামবিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডু। সেই সময় কোচবিহারের বিমানবন্দর নিয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি থেকে কোচবিহারের মানুষ যাতে বঞ্চিত না হন, সে দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি। কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের পরিকাঠামোর ‘বেহাল’ অবস্থা নিয়ে বাম এবং তৃণমূল আমলকে দুষেছেন শুভেন্দু। কেন এত দিনেও ওই মেডিক্যাল কলেজে স্নায়ুরোগ এবং হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

কয়লা, সুপারিপাচার থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ রুখতে পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অসম থেকে যাতে অবৈধ ভাবে কয়লা, সুপারি এ রাজ্যে আসতে না পারে, তা দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।’’ তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, কোনও সুবিধাভোগীর (বেনিফিসারি) থেকে টাকা তুললে জেলে যেতে হবে।

দিন কয়েক আগে কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ থানা এলাকার এক পাটখেত থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। কী ভাবে ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘ছোট বাচ্চা, বোন, দিদি, মহিলাদের উপর কেউ আঙুল তুললে, সেই আঙুল ভেঙে দিতে হবে। এর জন্য পুলিশকে যা করার করতে হবে।’’ পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, কোনও ভাবে সিন্ডিকেটরাজ চলবে না। সীমান্তে গাজ়া বা আফিমের মতো মাদকদ্রব্য চাষ নষ্ট করবে হবে। কামতাপুর রাজ্যের দাবি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজবংশীরা দু’হাত তুলে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের ভোটে আমরা জিতেছি। তাঁদের যা দাবি রয়েছে এবং যা অধিকার রয়েছে তা আলোচনা মাধ্যমেই ঠিক হবে।’’ এ-ও জানান, রাজবংশী ভাষায় অ্যাকাডেমির জন্য ৫০ কোটি দেওয়া হবে।

You might also like!