
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: উপনির্বাচনের আগে কিছুটা স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রামের জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। যে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি বাদ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বাকি মামলাগুলি রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে বলে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টে জানানো হয়েছে। ফলে ভোটের আগে মিলনের জেলমুক্তির সম্ভাবনা নতুন করে তৈরি হয়েছে। মিলনের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে রাজ্যের হয়ে আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার আদালতকে বিষয়টি জানান। রাজ্যের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মিলনের আবেদনের বিষয়ে আর কোনও নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানান। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মিলনের মুক্তির সম্ভাবনার দিকে নজর থাকছে রাজনৈতিক মহলের।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। তার আগে গত সপ্তাহে পুরনো খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। জোড়া মামলায় আপাতত আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর জেল হেফাজত। অর্থাৎ ভোটের আগে প্রচারের এতটুকুও সুযোগ নেই মিলনবাবুর। এই পরিস্থিতিতে সোমবার তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য হাই কোর্টে আবেদন জানান, বাকি যে পাঁচটি মামলা রয়েছে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে, তাতে যাতে ‘শোন অ্যারেস্ট’ও না করা হয়, সেই রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। মঙ্গলবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চে মামলাটির শুনানিতে রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মুখোপাধ্যায় জানান, যে মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ চেয়ে মিলন প্রধান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, সেই সবকটি মামলাই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপরই বিচারপতি জানান, তাহলে আর অন্তর্বর্তী নির্দেশের প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে মোট ১১টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে। অতি সম্প্রতি, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঠিক আগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় দুটি মামলায়। আগেই প্রত্যাহার হয়েছিল ৫ মামলা। এবার বাকি মামলাও রাজ্য সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে মামলায় মিলন প্রধান জেলবন্দি, তাতে জামিন মামলার শুনানি এখনও হয়নি। যদি তিনি জামিন পান, তাহলে ভোটের আগেই জেলমুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
