kolkata

1 hour ago

Poster Controversy: সুদীপকে নিশানা করে বিতর্কিত পোস্টার, প্রচারকের তালিকায় কুণাল-তাপসের নাম ঘিরে তুমুল বিতর্ক

Posters against MP Sudip Bandyopadhyay across North Kolkata
Posters against MP Sudip Bandyopadhyay across North Kolkata

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ওই পোস্টারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ব্যবহার করে কটাক্ষমূলক মন্তব্য লেখা হয়েছে, যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে পোস্টারের নীচে থাকা প্রচারকের নাম। সেখানে কুণাল ঘোষ এবং তাপস রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্টারে উল্লিখিত কুণাল ঘোষ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক এবং তাপস রায় মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী কি না, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে পোস্টারটি ঘিরে জল্পনা ও বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। 

কুণাল নিজেও জানিয়েছেন, পোস্টারে নাম থাকা কুণাল তিনি নন। তবে পোস্টারটির বয়ানের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন তিনি। বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের কথায়, “এই কুণাল ঘোষ আমি নই। তাপসদা অন্য দলের। আর এই তাপস রায় ওই তাপস রায় কিনা তা-ও বলতে পারব না। তবে পোস্টারে যে বক্তব্য রয়েছে, তার সঙ্গে আমি একমত।” তাপসও জানিয়ে দেন যে, এই পোস্টারের সঙ্গে তিনি কোনও ভাবে যুক্ত নন। তিনি বলেন, “আমার নামের আগে তো তা হলে মন্ত্রী থাকার কথা। ওই তাপস আমি নই। তবে উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে আমি বহু বছর ধরে সুদীপের বিরোধী। এলাকার মানুষ ওর উপর তিতিবিরক্ত।” অধুনা বিভক্ত তৃণমূলের কোনও শিবিরই সুদীপকে পছন্দ করেন না বলে দাবি করেন তাপস।

সোমবার সন্ধ্যা থেকেই তালতলা বাসস্ট্যান্ড, বঙ্গবাসী কলেজ, ক্রিক রো, রেলওয়ে কোঅপারেটিভ ব্যাঙ্কের কাছে এই পোস্টার দেখা যায়। এই এলাকাগুলি সুদীপের উত্তর কলকাতা কেন্দ্রের অন্তর্গত। কে বা কারা এই পোস্টার মেরেছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। পোস্টারে কুণাল এবং তাপসের নাম থাকাটাও বেশ ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ বর্তমানে এই দু’জন দুই দলে থাকলেও তাপস এবং কুণাল উভয়েই সুদীপ-বিরোধী হিসাবেই পরিচিত। দু’জনেই একাধিক বার প্রকাশ্যেই সুদীপকে আক্রমণ করেছেন। উত্তর কলকাতার বর্ষীয়ান সাংসদকে ‘সাদা হাতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন তাপস। পরচুলওয়ালা বলে সুদীপকে কটাক্ষ করেছেন কুণালও। এমনকি তাপসের তৃণমূল-ত্যাগের জন্যও প্রকারান্তরে সুদীপকে দায়ী করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। এই আবহে সুদীপ-বিরোধী পোস্টারে দুই দলের দুই বিধায়কের নাম থাকা নতুন জল্পনা উস্কে দিয়েছে। 

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল সাংসদদের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন সুদীপ। ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের মধ্যে দলনেতা হিসাবে বেছে নেওয়া হয় বর্ষীয়ান রাজনীতিক সুদীপকেই। সুদীপরা পরে নতুন দল এনসিপিআই-তে যোগ দেন এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নেন। সুদীপের রাজনৈতিক ভোলবদল হলেও তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলেই রয়ে গিয়েছেন। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। নয়নার উপস্থিতিতেই অবশ্য সুদীপকে আক্রমণ শানান কুণাল এবং শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য দিকে, সুদীপের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদেরা এনডিএ-কে সমর্থন করার পরেও উত্তর কলকাতার সাংসদকে নিশানা করেন বিজেপির মন্ত্রী তাপস। দাবি করেন, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এবং মমতাকে ব্যবহার করে সুদীপ এই জায়গায় এসেছেন। সেই সুদীপের বিরুদ্ধে পড়া পোস্টারে কুণাল এবং তাপসের নাম থাকা স্বাভাবিক ভাবেই নানা জল্পনাকল্পনার জন্ম দিচ্ছে।

You might also like!