
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিপফেক ছবি, ভিডিও ও অডিওর অপব্যবহার। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশে কার্যরত সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি সংস্থাকে ডিপফেক শনাক্তকরণ এবং অপসারণ সংক্রান্ত একাধিক বাধ্যতামূলক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
নতুন নিয়মে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি কোনও ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা হলে তাতে অবশ্যই উপযুক্ত লেবেল বা চিহ্ন থাকতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই বুঝতে পারেন সেটি বাস্তব নয়। পাশাপাশি, কোনও ডিপফেক কনটেন্ট যদি আইন লঙ্ঘন করে বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে তা পোস্ট হওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যদিকে, কারও পরিচয় ভাঁড়িয়ে তৈরি করা কনটেন্ট বা অশালীন ও নগ্ন ডিপফেক ছবি-ভিডিওর ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে হবে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টার মধ্যে।
সরকার আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিলেই চলবে না। সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে এমন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে, যা ভাইরাল হওয়ার আগেই এআই-নির্মিত ডিপফেক কনটেন্ট শনাক্ত করে আটকে দিতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ, কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিরোধ এখন প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। নিয়ম অমান্য করলে সংস্থাগুলোর জন্য অপেক্ষা করছে কঠোর পরিণতি। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে এতদিন যে আইনি সুরক্ষা তারা পেত, তা বাতিল হতে পারে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের পথও খুলে যাবে।
শুধু ভারত নয়, ডিপফেক মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশও কড়া অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর জন্য স্বচ্ছতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর হয়েছে। একইসঙ্গে ডিপফেক শনাক্তকরণ ও দ্রুত ফিল্টারিং ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল এবং ডিপফেক কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নীতিমালা কার্যকর করছে। ভবিষ্যতে ভারতে বা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরিষেবা চালিয়ে যেতে চাইলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে তথ্যের নিরাপত্তা, দ্রুত আপত্তিকর কনটেন্ট অপসারণ এবং এআই ব্যবহারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই হবে।
