
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আনন্দে একাকিত্ব কাটাতে চাইছেন? সোশাল মিডিয়ায় কি ‘ভাড়া’ নেওয়া যাচ্ছে বন্ধু বা বান্ধবী—এমন কোনও বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছে? তাহলে সাবধান। উৎসবের মরসুমে নিঃসঙ্গতার সুযোগ নিয়ে এমনই অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে সাইবার জালিয়াতরা। তাই এ ধরনের কোনও প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোশাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘ড্রিমবয়’ কিংবা ‘ড্রিমগার্ল’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সঙ্গী বা সঙ্গিনী ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হচ্ছে আকর্ষণীয় যুবক-যুবতীর ছবি। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এই ছবিগুলির অনেকগুলিই আসল নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সাহায্যে তৈরি ছবি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়ো প্রোফাইল। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হচ্ছে, পার্টি, ইভেন্ট, ঘুরতে যাওয়া কিংবা পুজোর সময় প্যান্ডেল হপিং—যে কোনও ক্ষেত্রেই এই ‘ভাড়া করা’ বন্ধু বা বান্ধবী সঙ্গ দিতে পারেন। এমনকি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার আশ্বাসও দেওয়া হচ্ছে। আগ্রহীদের দ্রুত বুকিং করার জন্য বিজ্ঞাপনের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ‘Book Now’-এর মতো অপশন।
পুলিশের দাবি, আসল প্রতারণার পর্ব শুরু হয় কেউ সেই লিঙ্কে ক্লিক করে বুকিং করতে গেলে। প্রথমে নাম নথিভুক্ত করার জন্য চাওয়া হয় অগ্রিম টাকা। এরপর পছন্দের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ছবি, নাম এবং বিভিন্ন তথ্য পাঠিয়ে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করা হয়। তারপর একে একে দাবি করা হতে পারে বুকিং চার্জ, সিকিউরিটি ডিপোজিট কিংবা ভেরিফিকেশন ফি। এই ধরনের একাধিক ধাপে টাকা দেওয়ার পরই বিপদ আরও বাড়ে। টাকা পাওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্লক করে দেওয়া হতে পারে। বন্ধ হয়ে যায় ফোন, মেসেজ বা অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম। ফলে টাকা হারানোর পাশাপাশি প্রতারিত ব্যক্তির কাছে সেই ‘বন্ধু’ বা ‘বান্ধবী’র অস্তিত্বেরও কোনও প্রমাণ থাকে না। গোয়েন্দাদের কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পৌঁছেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, পুজোর আগে একাকিত্বকে হাতিয়ার করে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে।
পুলিশের মতে, ভুয়ো ডেটিং অ্যাপ বা অনলাইন সঙ্গী দেওয়ার নামে প্রতারণার যে পদ্ধতি আগে দেখা গিয়েছে, তারই নতুন রূপ হতে পারে এই ‘ভাড়া বন্ধু’ পরিষেবা। তাই সোশাল মিডিয়ায় অপরিচিত কারও এমন প্রস্তাব এলে কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করা, অগ্রিম টাকা না পাঠানো এবং ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুজোর আনন্দের মাঝে যাতে প্রতারণার শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে আগেভাগেই সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে পুলিশ।
