
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত আপত্তি ছিল না ভারতের। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকরা যেন কোনও প্রশ্ন করতে না পারেন, সেই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছিল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই অনুরোধের কথা মাথায় রাখেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। এতদিনের এই নেপথ্য ঘটনাই এবার প্রকাশ্যে আনলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্জিও গোর।
জি৭ সামিটের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোদি। তার কয়েকদিন আগেই হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন হানায় মৃত্যু হয় তিন ভারতীয় নাবিকের। এহেন পরিস্থিতিতে বৈঠকে বসেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। তারপর ঠিক কী কী হয়েছিল, সেটার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন গোর। একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা তো মঞ্চের পিছনে ছিলাম। তখন প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ভারত কী কী বিষয়ে কথা বলতে চায়। আরও জানতে চান, ভারতের তরফ থেকে কোনও দাবি আছে কিনা। তখন আমি বলি, ভারত সাংবাদিকদের প্রশ্ন চায় না। প্রেসিডেন্ট রাজি হয়ে যান।” কিন্তু সাংবাদিকরা আসতেই ছবিটা পালটে যায়। ক্যামেরার সামনে দুই রাষ্ট্রপ্রধানই কয়েক মিনিট করে বক্তব্য রাখেন। তারপরই অভ্যাসবশত ট্রাম্প বলে ফেলেন, “এনি কোয়েশ্চেন্স?” মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেমালুম ভুলে যান, প্রশ্ন না নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল ভারতের তরফ থেকে। গোরের কথায়, “প্রেসিডেন্টের ওই একটা মন্তব্যের পর একের পর এক প্রশ্ন আসতে থাকে দুই রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে নানা ইস্যুতে আলোচনা হয়।” যদিও প্রধানমন্ত্রী কোনও প্রশ্নেরই জবাব দেননি।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য নিয়ে নয়াদিল্লির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে সাম্প্রতিক অতীতে বিদেশ সফরে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠক না করার কারণে প্রশ্ন উঠেছে মোদিকে নিয়ে। নরওয়েতে সাংবাদিকরা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করেন প্রধানমন্ত্রীকে। বিরোধী দলগুলিও তোপ দাগে মোদিকে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মোদিকে একবারও সাংবাদিক বৈঠক করতে দেখা যায়নি। সেই নিয়ে লাগাতার সমালোচনা চলেছে। কিন্তু প্রশ্ন না করার অনুরোধ এইভাবে ‘ফাঁস’ করেননি কোনও বিদেশি প্রতিনিধি। গোরের এই মন্তব্য নিয়ে পালটা দেবে নয়াদিল্লি?
