
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ভক্তদের জন্য সুখবর শোনালেন পরিচালক জোয়া আখতার। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া এই জনপ্রিয় ছবির স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে তাজা। এবার সেই নস্ট্যালজিয়াই ফিরতে চলেছে বড় পর্দায়। হৃতিক রোশন, ফারহান আখতার এবং অভয় দেওলকে নিয়ে তৈরি হতে পারে ছবির দ্বিতীয় পর্ব। সিক্যুয়েল নিয়ে জল্পনার মাঝেই ছবির কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন জোয়া।
‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ মুক্তির পর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় দশক। ছবির তিন বন্ধু অর্জুন, কবীর ও ইমরানের চরিত্র দর্শকদের কাছে আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাই দীর্ঘদিন ধরেই ছবির দ্বিতীয় ভাগ নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। ২০২৫ সালে ইয়াস আইল্যান্ডে হৃতিক, ফারহান ও অভয়কে একসঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে দেখা যাওয়ার পর সেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। অনুরাগীদের অনুমান যে একেবারে ভিত্তিহীন ছিল না, তা এবার কার্যত স্পষ্ট করলেন জোয়া আখতার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালক জানান, ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। তবে শুধুমাত্র জনপ্রিয় ছবির সিক্যুয়েল তৈরি করার তাগিদে তিনি সিনেমা বানাতে চান না। বর্তমান সময়ের সঙ্গে চরিত্র ও গল্পকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে পারলেই পরবর্তী ছবিটি তৈরি হবে।

জোয়ার কথায়, “আমরা জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে বা আদৌ হবে কি না। বর্তমান সময়ে এই চরিত্রগুলোকে প্রাসঙ্গিক করে যদি গল্প বোনা সম্ভব হয় তাহলেই সিনেমা তৈরি হবে। কারণ সেটাই পর্দায় দর্শক উপভোগ করবে।” অর্থাৎ, পুরনো চরিত্র ফিরলেও গল্পে সময়ের পরিবর্তনের ছাপ থাকবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন পরিচালক। এর আগে সিক্যুয়েল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জোয়া জানিয়েছিলেন, “যখন হবে, তখন আমি ঘোষণা করব।” এবার তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই অপেক্ষার অবসান হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এখনও ছবিটির সম্পূর্ণ কাস্ট, শুটিং সূচি বা মুক্তির তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে ২০২৫ সালের ইয়াস আইল্যান্ডের বিজ্ঞাপনে তিন অভিনেতাকে একসঙ্গে দেখার পর অনেক দর্শক সেটিকে ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা ২’-এর ট্রেলার ভেবেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে জোয়ারও অজানা ছিল না। বরং তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, “মানুষ ভেবেছিল এটা ট্রেলার।” সব মিলিয়ে, ১৫ বছর পর অর্জুন, কবীর ও ইমরানের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের খবরে উচ্ছ্বসিত অনুরাগীরা। এখন দেখার, পুরনো সেই বন্ধুত্ব, ভ্রমণ আর জীবনের উদযাপনকে নতুন সময়ের গল্পে কীভাবে ফিরিয়ে আনেন জোয়া আখতার।

