
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: তৃণমূল জমানার অবসানের পর একের পর এক নেতার ‘গুপ্তধন’ প্রকাশ্যে আসছে বলে দাবি করলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বুধবার এই ইস্যুতে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন তিনি। দিলীপের অভিযোগ, বাংলায় কোনও কাজ না করেও কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়, সেই ‘শিক্ষা’ তৃণমূল জমানাতেই মিলেছে। একইসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর বিপুল সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে ফের তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
২০২২ সালে বাংলার মানুষ দেখেছিল মন্ত্রীর বান্ধবীর বাড়িতে টাকার পাহাড়! তারপর জেলে যেতেও হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবীকে। পালাবদলের পর অর্থাৎ গত কয়েকমাসে একাধিক নেতার বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তাঁর মধ্যে রয়েছেন মিনার মণ্ডল, টুলু মণ্ডলরা। বুধবার প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে তৃণমূল নেতাদের পাহাড় প্রমাণ সম্পত্তি নিয়েই মুখ খুললেন দিলীপ। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের এত সম্পত্তি কেউ কোনওদিন দেখেছেন? আমরা এতদিন জানতাম বড়লোক মানে ব্যবসায়ী, মারোওয়ারিরা। কিন্তু এদের তো দেখছি সবারই কোটি কোটি টাকা। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শিখিয়েছেন যে কিছু না করেও বড়লোক হওয়া যায়।” এরপর কেষ্ট প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, “ওই যে কেষ্ট মণ্ডল, কোনওদিন কোনও পদেও ছিল না। তাঁর নাকি সাড়ে ৫০০ কোটির সম্পত্তি, কীভাবে হল?”
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা ছিল টুলুর। এছাড়া নগদ পাওয়া গিয়েছে ৫৩ লক্ষ টাকা। রয়েছে ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো ও ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি রয়েছে। শুভেন্দু আরও জানান, টুলুর মোট ২১টি সম্পত্তি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সব মিলিয়ে কয়েকশো কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক তিনি। ইতিমধ্যে পাহাড়প্রমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তাঁর ম্যানেজার মিনার মণ্ডলকে আগেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে নগদ উদ্ধার হয়েছিল সাড়ে আঠাশ কোটি টাকা।
