kolkata

1 hour ago

Howrah ward rises :কলকাতা ও হাওড়ার প্রশাসনিক মানচিত্রে বড় বদল, ওয়ার্ড বৃদ্ধি নিয়ে বিধানসভায় বিল পেশ

BIDHAN-SOBHA_
BIDHAN-SOBHA_

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের দামামা! কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পথে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হল। একইসঙ্গে আগের সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাবও আনা হয়েছে। বিধানসভায় হাওড়ার অনুন্নয়ন নিয়ে আগের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল জমানায় হাওড়ায় দুর্নীতি হয়েছে। পুকুর বুজিয়ে বৈআইনি নির্মাণ হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা তথৈবচ। পানীয় জলটুকুও সব বাড়িতে পৌঁছয় না। আমরা রাস্তা-নিকাশি-জল নিয়ে বিশেষ প্ল্যান করছি। ১৫ বছর ধরে হাওড়ার মানুষ বঞ্চিত। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণেই ওয়ার্ড বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস হলে নাগরিকরা সঠিকভাবে পরিষেবা পাবেন। মানুষের ভোটে হারবেন বলে, এতদিন ভোটই করতে দেয়নি তৃণমূল। আর্থিক বরাদ্দ ২০০ কোটি টাকা হাওড়া বঞ্চিত। হাওড়া মিউনিসিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, সংশোধনী বিল ২০২৬ নামে একটি বিল তৈরি হয়। প্রশাসনিক বৈষম্য ও পুর পরিষেবা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হাওড়ার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে ৬৮টি বাড়ানো হবে।”

বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাইয়ের অভিযোগ, “গত সরকারের আমলে নাগরিকদের নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে দুষে সুর চড়ান তিনি। বিধায়কের কথায়, “নাগরিক পরিষেবার বদলে প্রতারণা হয়েছে মানুষের সঙ্গে। বালি পুরসভাকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো করে রাখা হয়েছে। হাওড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা জলনিকাশির অব্যবস্থা। তা হাল ফেরাতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাওড়া পুরসভার উন্নয়নের স্বার্থে ৪ হাজার ৭০২ কোটি বরাদ্দ করেছেন।” পূর্বতন সরকারকে বিঁধে বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি দাবি, “তৃণমূল নেতাদের করজোড়ে ক্ষমা চাওয়া উচিত। হাওড়া, বালির মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে এতদিন।” সংশোধনী বিলের প্রয়োজনীতা উল্লেখ করে কৌস্তভ বলেন, “এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন ছিল। হাওড়ায় ৫০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন অনেক ওয়ার্ড আছে, যেখানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটার সংখ্যা। বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার থাকবেন। যার ফলে পরিষেবা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি, প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। মানুষের স্বার্থে আমি এই বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি।” এত বছরে কেন হাওড়ায় উন্নয়ন করা গেল না? কলকাতার মেয়রের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্নবাণ যেতেই সাফাই দিতে দাঁড়ান ফিরহাদ। ঠিক সেই সময়ই হই হট্টগোল শুরু হয় বিধানসভায়। ফিরহাদের বক্তব্য, “বালিতে উন্নয়নের জন্য হাওড়ার সঙ্গে জোড়ার পরিকল্পনা ছিল।” এরপরই জিতেন্দ্র তিওয়ারির সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে যান ফিরহাদ।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ২০০টি ওয়ার্ড করার জন্য সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। কিন্তু সীমানা পুনর্বিন্যাস করতে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ড পিছু সর্বত্র ১৬ হাজার ভোটার রাখতে গিয়ে সীমানার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রশাসনিক জটিল সমস্যা দেখা দেয়। বস্তুত সেই কারণে ঘোষণা মেনে ৩১ জুলাই নয়া ওয়ার্ডের তালিকা প্রকাশ না করে কলকাতা পুরসভা পাঁচদিন পরে ২০৯টি ওয়ার্ডের মানচিত্র পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠায়। ওয়ার্ড বাড়লেও কলকাতায় ১৬টি বরো থাকছে বলেও সূত্রের খবর।

কলকাতার নতুন ২০৯ ওয়ার্ডের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এবার শুরু হবে সংরক্ষণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সর্বদল বৈঠক ডেকে মহিলা ও তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ওয়ার্ড চিহ্নিত করবে। পুজোর আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, প্রায় আট বছর ধরে পুরভোট না হওয়া হাওড়া পুরনিগমেও জোরকদমে চলছে সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ। পুরনো ৫০টি ওয়ার্ড ভেঙে তা বাড়িয়ে ৬৮টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ওয়ার্ডগুলির মানচিত্রও তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিধানসভার বিশেষ বর্ষাকালীন অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল পাশ হলে দ্রুত পুরভোটের পথ খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি না থাকায় হাওড়ায় নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, নতুন ব্যবস্থায় তার অবসান ঘটবে বলেই আশাবাদী রাজ্য সরকার।

You might also like!