
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে একটি জনবহুল হলিডে রিসর্টে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। ইউক্রেনের চালানো এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। ঘটনাস্থলটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘প্যালেস’ নামে পরিচিত বিলাসবহুল কমপ্লেক্সের কাছেই অবস্থিত। আর্খিপো-ওসিপোভকা এলাকার এই পর্যটনকেন্দ্রটি ছুটির মরশুমে পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট থাকে। হামলার সময়ও সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গ্রীষ্মের ছুটির ফলে এই অঞ্চলে প্রচুর মানুষ ছুটি কাটাতে এসেছিলেন। সমুদ্র সৈকত ভিড়ে ঠাসা ছিল। ভিড় লক্ষ্য করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার জেরে ৩ শিশু-সহ অন্তত ৭জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ১৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, সমুদ্রে স্নান করছেন পর্যটকরা। ঠিক সেই সময়, সমুদ্র সৈকতে আছড়ে পড়ে একটি ড্রোন ব্যাপক বিস্ফোরণে ফেটে যায় সেটি। হুড়োহুড়ি পরে যায় ভিড়ের মধ্যে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের ঠিক আগে মেশিনগানের গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। লোকজন সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময়টুকু পাননি তার আগেই ভয়ংকর এই বিস্ফোরণ ঘটে। এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে রাশিয়া। রুশ বিদেশমন্ত্রকের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাতে মদত যোগাচ্ছে পশ্চিমের দেশগুলি। এই হামলা তারই উদাহরণ। তবে হামলার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি ইউক্রেন। হামলার দায়ও স্বীকার করেনি তারা।
এদিকে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, যে ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, সেখানে শোনা গিয়েছে গুলির শব্দ। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোনটিকে ভূপতিত করতে প্রথমে গুলি ছুড়েছিল। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সৈকতে আছড়ে পড়ে যার জেরেই এই ঘটনা। যেখানে বিস্ফোরণ হয়েছে তার আশপাশে অনেক সামরিক স্থাপনা ছিল। সম্ভবত তেমনই কোথাও হামলার পরিকল্পনা ছিল ড্রোনটির। জনবহুল স্থানে এর আগে কখনও এই ধরনের হামলা চালায়নি ইউক্রেন।
