
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: একসময় সিবিআইয়ের ডিরেক্টর পদে ছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পছন্দের আইপিএস অফিসারদের তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পদও হারান প্রাক্তন সিবিআই প্রধান নাগেশ্বর রাও। এবার প্রশাসনিক জীবনের পর সরাসরি রাজনীতির ময়দানে পা রাখলেন তিনি। সর্বজন সনাতন পার্টি নামে একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সভাপতি পদে যোগ দিয়েছেন প্রাক্তন এই সিবিআই প্রধান। নাগেশ্বর রাওয়ের বক্তব্য, এতদিন দেশসেবার ক্ষেত্রে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, এবার সেই অভিজ্ঞতাকেই রাজনৈতিক পরিসরে কাজে লাগাতে চান তিনি।
বস্তুত ২০১৮ সালে সিবিআইয়ের অন্দরে বেনজির সংঘাতের পর , নাগেশ্বর রাওকে দু’দফায় সিবিআইয়ের অন্তর্বর্তী প্রধান পদে নিয়োগ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। আসলে সেসময় সিবিআইয়ের দুই শীর্ষ কর্তা আলোক ভার্মা এবং রাকেশ আস্তানা বেনজিরভাবে নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। সেই সংঘাতের জেরে দু’জনকেই সংস্থার শীর্ষপদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। সেসময় অস্থায়ীভাবে তৎকালীন অতিরিক্ত ডিরেক্টর রাওকে প্রতিষ্ঠানের অন্তর্বর্তী ডিরেক্টর পদে নিয়োগ করে কেন্দ্র। কিন্তু সিবিআই প্রধান পদে যে সামান্য সময় ছিলেন, তাতেই একাধিক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকী এক সিবিআই কর্তাকে বদলি করে সুপ্রিম কোর্টের রোষের মুখে পড়েন তিনি। তাঁকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানার পাশাপাশি গোটা দিন আদালতে বসে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। এছাড়া আর্থিক তছরুপের অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও ছিল। স্ত্রীর সংস্থাকে বাঁচাতে সারদা মামলার তদন্তের গতি শ্লথ করে আনার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই নাগেশ্বের রাও এবার সক্রিয় রাজনীতিতে।
শনিবার বারাণসীতে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন তিনি। নাগেশ্বর জানিয়েছেন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাই রাজনীতিতে যোগ দিতে উৎসাহ জুগিয়েছে তাঁকে। দলের নামে সনাতন থাকলেও তাঁরা বিভেদকামী নন বলেই দাবি নাগেশ্বরের। তিনি বলছেন, “সনাতন শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রতীক নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার, শাসন, সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক জীবনে এর মূল্য রয়েছে। সকলের সমান যোগদান বাড়াতে হবে। সনাতন কারও বিরোধী নয়।
