
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভিনেতা হিসেবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমাজসেবী হিসেবেও সোনু সুদের পরিচিতি এখন দেশজুড়ে। দুর্যোগের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজির তিনি একাধিকবার রেখেছেন। কোভিড অতিমারির সময় থেকেই বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। নেপালে হড়পা বানের মতো বিপর্যয়ের সময়ও সেই ভূমিকা থেকে সরে আসেননি সোনু। এ বার বিহারের বন্যাকবলিত এলাকাতেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা ও সমাজসেবী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিতে নিজেই সেখানে পৌঁছে যান সোনু সুদ। তাঁর এই উদ্যোগে নতুন করে সামনে এল বিপদের সময়ে মানুষের পাশে থাকার সেই পরিচিত ছবি।
নৌকায় চেপে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলিতে ত্রাণ বিলি করছেন। সমাজমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি ভাগ করে নিয়ে জানিয়েছেন, যতটা সম্ভব বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা জারি আছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিহারে সোনু সুদ সরাসরি ত্রাণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। নৌকায় করে দুর্গত গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেখানের বাসিন্দাদের দেখা করছেন এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করছেন। এক্স হ্যান্ডল ও ইনস্টা অ্যাকাউন্টে বেগুসরাই-সহ বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিলির ছবি শেয়ার করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে ভিডিওবার্তায় সোনু সুদ জানান, তিনি ও তাঁর দল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন। এই প্রেক্ষিতে অভিনেতার সংযোজন, “এই মুহূর্তে আমরা এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাচ্ছি যাতে যতটা সম্ভব বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া যায়। এরপর আমরা পরবর্তী গ্রামে যাব। যথাসম্ভব বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করব।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও মাঝিদের সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন জানান, “স্থানীয় গ্রামের বহু মানুষ আমাদের সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছেন। আমরা সেই পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি যারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজটা কঠিন, কিন্তু আমাদের ভাই-বোন, মাঝি ও গ্রামবাসীরা প্রত্যেকে খুব সাহায্য করছেন যাতে সহজে দুর্গতদের কাছে পৌঁছাতে পারি। আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, আমাদের পিছনেই মানুষজন জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন। যাঁরা কষ্টে আছেন, তাঁদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করব। জয় বিহার।”
‘বিহারের স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স’ -এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ১৫টি জেলা, ৮৮টি ব্লক এবং ৫৭৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা বন্যার কবলে। বর্তমানে সাতটি ত্রাণ শিবিরে ৮,৯৪৮ জন বন্যাদুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৫০টি কমিউনিটি কিচেন বা গণ-রান্নাঘর থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬৩ হাজার বার খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হওয়া সত্ত্বেও নদীর জলস্তর নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে তা বললে অত্যুক্তি হবে না।
