
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ‘সরকারি অনুদান নিলে পুজোমণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখতেই হবে’—বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। বিতর্কের আবহে এ বার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দিলীপের বক্তব্য, সরকারি অনুদানের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর দাবি, “ওসব তৃণমূল জমানার শর্ত ছিল। আমাদের সরকার এমন কোনও নির্দেশ দেয়নি।” ফলে সরকারি অনুদান এবং পুজোমণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখা নিয়ে উদয়শংকরের মন্তব্যের পর তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হল মন্ত্রীর এই বক্তব্যে।
মঙ্গলবার সাঁইথিয়ায় দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত ফতোয়া জারি করে দেন। পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা সরকারি অনুদান নেবেন, তাদের জন্য মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগানো বাধ্যতামূলক। আর যারা অনুদান নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগাবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আমি অ্যাকশন নেব।” পুজোর মুখে বীরভূমে বিজেপি নেতার মন্তব্য ঘিরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন দিলীপ-সুকান্তরা। মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বাধ্যতামূলক প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের সাফ বার্তা, ” আমাদের সরকার এরকম করবে না। আগে এটা শর্ত দেওয়া হত। মমতা ব্যানার্জির ছবি না লাগালে আর তাদের পয়সা দেওয়া হত না। আর সে পয়সার থেকে আবার নেতারা কাটমানিও নিতেন। আমাদের সরকার এরকম কোন নির্দেশ দেয়নি যে মুখ্যমন্ত্রী ছবি লাগাতে হবে। মা দুর্গার পূজা করছেন, ভালো করে করবেন।” দিলীপের সুরেই গলা মেলান সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, “মণ্ডপে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগানো নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়নি সরকার। এসবের কোনও প্রশ্নই আসে না।”
প্রসঙ্গত, গত সরকারের আমলে রাজ্যের ছোট-বড় সব দুর্গাপুজোর মণ্ডপজুড়েই সরকারি বিজ্ঞাপনের নামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেখা যেত। পরিবহণ দপ্তরের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’, জনমুখী প্রকল্প যেমন, ‘কন্যাশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ বিজ্ঞাপনের ছয়লাপ থাকত দুর্গাপুজোর মণ্ডপে। এবার যে সেই ট্রেন্ড নয়, বীরভূমের সাংগঠনিক জেলা সভাপতির মন্তব্যের পরেই স্পষ্ট করে দিলেন বিজেপির শীর্ষনেতারা।
