
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় মাঝআকাশে বিমানের ককপিটের ভিতর দুই পাইলটের মধ্যে রক্তারক্তি কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়াল যাত্রীদের মধ্যে। দ্য টাইমস অফ ইজ়রায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বচসার এক পর্যায়ে এক পাইলট অপর পাইলটকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। ককপিটের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এরপর তাঁদের মধ্যে এক জন ককপিটের দরজা খুলে দেখতে পান, এক পাইলট মেঝেতে পড়ে রয়েছেন এবং তাঁর শরীর রক্তাক্ত। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দুই পাইলটই ওমানের নাগরিক। ঘটনাটি ঘিরে বিমানের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন বলছে, যাত্রীদের মধ্যে কয়েক জন পাইলট ছিলেন। তাঁরাই বিমানটিকে সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবরতরণ করান। ওই পাইলটেরা যদি ককপিটের দখল না নিতেন, তা হলে ২০০১-এর আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার মতো ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন ইজ়রায়েলের এক শীর্ষ আধিকারিক। এই ঘটনার মধ্যে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে বিমানযাত্রীরা হাততালি দিচ্ছেন, গান গাইছেন। দাবি করা হচ্ছে, ফ্লাই দুবাইয়ের ওই বিমান তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করার পর যাত্রীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’জনের এই মারামারির মধ্যেই হামলাকারী পাইলট বিমানটিকে ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেন। অন্য পাইলট তা প্রতিহত করা চেষ্টা করেন। দু’জনকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই ঝামেলার মধ্যেই বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে হু-হু করে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। দু’মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। বেশ কয়েকটি সূত্রে আবার দাবি করা হয়েছে, হামলাকারী পাইলট আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টাও করেন। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় যখন রক্তারক্তি কাণ্ড চলছে বিমানের ককপিটে, তার মধ্যেই বিমান অপহরণের বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। সূত্রের খবর, প্রথমে স্কোয়াক কোড ৭৭০০ পাঠানো হয়। তার পর পরই আবার স্কোয়াক কোড ৭৫০০ পাঠানো হয় এটিসি-কে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত ইজ়রায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুই পাইলটের মধ্যে এক জন আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বিমান ক্র্যাশ করানোর হুমকি দিচ্ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, আত্মহত্যারও হুমকি দেন। ককপিটের মধ্যে ভয়ঙ্কর এই নাটকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে ফ্লাই দুবাইযের এফজ়েড ১০৭৩ বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজ়রায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু পরে ইজ়রায়েলের তরফে অপহরণের ঘটনার কথা খণ্ডন করা হয়।
