
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দ্রুত বদলে যাচ্ছে বিশ্ব কূটনীতির সমীকরণ। পুরনো বন্ধুত্বের জায়গায় তৈরি হচ্ছে নতুন সমীকরণ, আবার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষের সঙ্গেও দেখা যাচ্ছে সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনা। এই পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেই একাধিক কূটনৈতিক সমীকরণ সামলে এগোতে হচ্ছে ভারতকে। সদ্য সমাপ্ত ব্রিকস সম্মেলন থেকে আমেরিকার মাটিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একের পর এক বক্তব্য, সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক অবস্থানেরই প্রতিফলন। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান যে স্পষ্ট, তা ফের জানিয়ে দিলেন জয়শঙ্কর। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে আমেরিকা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সোমবার এশিয়া সোসাইটির মঞ্চ থেকে জয়শংকর বলেন, “পৃথিবীতে খুব কম দেশই রয়েছে, যারা আমাদের মতো কয়েক দশক ধরে প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রীয় মদতে সন্ত্রাসবাদের শিকার।” কারও নাম না করলেও জয়শংকরের ইঙ্গিত ছিল পাকিস্তানের দিকে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইসঙ্গে কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “সীমান্ত সন্ত্রাস যেখানে আমাদের কাছে গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে, সেখানে বন্ধু রাষ্ট্র যদি দ্বিচারিতা করে। আমাদের সমস্যা যদি তারা না বোঝে, তাদের যদি এই ইস্যুতে সহমর্মিতার অভাব থাকে তাহলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলবে।” আরও স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান উদ্বেগকে যদি আমার সঙ্গী গুরুত্ব না দেয়, তাহলে সম্পর্কে ফাটল ধরবেই।”
বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ডামাডোলের মাঝে জয়শংকরের এই বার্তা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকায় শাসনভার হাতে নেওয়ার পর সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে পাকিস্তানকে লাগাতার ছাড় দিচ্ছে। পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলি যেখানে পাকিস্তানের জঙ্গিযোগ নিয়ে সরব ছিল, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটাই নীরব। পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানের মদতে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ইসলামাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়িয়েছে আমেরিকা। একের পর এক চুক্তি সম্পন্ন করে গিয়েছে তারা। ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিরবতা ভারতের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন প্রশাসনকে বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সমালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। এদিন নিজের ভাষণে জয়শংকর বলেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। আমেরিকার শুল্ক নীতি হঠাৎ বদলে যাওয়ার জেরে চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর হতে দেরি হচ্ছে। এই চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক ফের গতি পাবে বলে মনে করেন জয়শংকর।
Breaking: S Jaishankar calls out US over ties with Pakistan “There are very few countries that have been subject to the kind of terrorism we have by a neighbour..If something that matters so deeply to us is not understood or appreciated enough, that creates a problem too” https://t.co/aJBGmHoLzE
— Shashank Mattoo (@MattooShashank) September 29, 2026
