
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সামিল হল পশ্চিমবঙ্গ। কয়েক দিন আগেই রাজ্যে এই কর্মসূচি পালনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো সোমবার কলকাতার রাজপথে জাতীয় পতাকা হাতে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রায় অংশ নেন তিনি। প্রায় আড়াই কিলোমিটার পথ হাঁটেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও বিধায়ক। পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষও হাতে তেরঙ্গা নিয়ে মিছিলে পা মেলান। মিছিল শেষে শুভেন্দু বলেন, “আজ কলকাতা তেরঙ্গাময়। এই প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গ ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে।” তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিন সরকারি উদ্যোগে রাখি বন্ধন উৎসব পালনের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার কলকাতার গৌর পাল সরণি থেকে এই মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি যায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নর্থ গেট পর্যন্ত। মিছিলের শুরুতেই জাতীয় পতাকা হাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর ঠিক পাশেই ছিলেন পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ, মন্ত্রী অর্জুন সিং, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দীপক বর্মণ, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, কৌস্তভ বাগচী-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রত্যেকের হাতেই ছিল জাতীয় পতাকা। ‘প্রতিটি বাড়িতে তেরঙ্গা’ লেখা একটি ব্যানার দেখা যায় মিছিলের একেবারে শুরুতে। নেতা-মন্ত্রীদের পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
৫ আগস্ট উপলক্ষে এনডিএ সরকার বছর কয়েক ধরে উদযাপন করে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ কর্মসূচি (Har Ghar Tiranga Campaign)। এতদিন বাংলায় বিরোধী দলের সরকার থাকায় এই কর্মসূচি হত না। এবার রাজ্যেও বিজেপি সরকার। প্রথমবার কেন্দ্রের ওই কর্মসূচির সঙ্গে রাজ্যকে যুক্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ৯ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত হবে এই কর্মসূচি। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই এই কর্মসূচি শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন, আপনারা সকলে এতে অংশগ্রহণ করুন। নিজের নিজের বাড়িতে তেরঙ্গা তুলুন।” এই উপলক্ষে ৭০ লক্ষ তেরঙ্গা বিতরণ করা হচ্ছে রাজ্যে।
আড়াই কিলোমিটারব্যাপী এই মিছিলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, কলকাতা পুরসভাকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি তিনি বলেন, “এই প্রথম রাজ্যে হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। প্রতি বাড়িতে তেরঙ্গা পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে হর ঘর তেরঙ্গা কর্মসূচি সফল করার আবেদন করব। আগামী ১৫ আগস্ট রেডরোডে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “রাখি বন্ধন উৎসবকে সরকারিভাবে পালন করার ঘোষণা করলাম। ধর্মীয় মাহাত্ম নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধনকে আরও সূদৃঢ় করে পশ্চিমবঙ্গকে ভারত সেরা করার লক্ষ্যে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করব।”
