
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অনেকেই মনে করেন, হাড়ের ক্ষয় শুধুমাত্র বার্ধক্যের সমস্যা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অল্প বয়স থেকেই ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত জীবনযাপন, পুষ্টির ঘাটতি এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হাড়কে দুর্বল করে তোলে। ফলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্টিয়োপোরোসিস, জয়েন্টের সমস্যা এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। তাহলে ভবিষ্যতে হাড়ের ক্ষয় ও ভাঙনের ঝুঁকি কমাতে এখন থেকেই কোন কোন অভ্যাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন?
* পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর অভাব— হাড় মজবুত রাখার জন্য ক্যালশিয়াম হল প্রধান খনিজ উপাদান, আর ভিটামিন ডি ভাল ভাবে ক্যালসিয়াম শোষণে শরীরকে সাহায্য করে। দুগ্ধজাত খাবার, সবুজ শাকসব্জি এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাবারের স্বল্পতা এবং সেই সঙ্গে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে কম আসা— এ সবের ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের অভাবেও হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। হাড় মজবুত রাখতে শরীরে এই পুষ্টি উপাদানগুলির শরীরে যেন অভাব না হয়, তা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন, পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট রুটিন নতুন করে সাজানো।
* অতিরিক্ত বসে থাকা ও শারীরিক নড়াচড়ার অভাব— হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য নড়াচড়া বা শারীরিক সক্রিয়তা প্রয়োজন। হাঁটা, জগিং, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা, নাচ এবং শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের মতো শারীরচর্চা রোজের রুটিনে রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাপন হাড়ের ক্ষয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। হাড় হল এক ধরনের জীবন্ত কলা, যার মধ্যে প্রতিনিয়ত ক্ষয় ও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শারীরিক সক্রিয়তার অভাবে হাড়গঠনের তুলনায় হাড়ক্ষয়ের হার বেড়ে যায়, ফলে হাড় ক্রমশ সরু ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
* ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান— ধূমপান হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে, ক্যালশিয়াম গ্রহণ হ্রাস করে এবং রক্তপ্রবাহ ধীর করে হাড়ের ক্ষতি করে। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়া ও নিতম্বের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অন্য দিকে, অতিরিক্ত মদ্যপানও ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা দেয় এবং ভিটামিন ডি-এর বিপাকপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়, সব মিলিয়ে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।
* নুন-চিনির বিষয় অসচেতনতা— ডায়েটে নুন-চিনির মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। বেশি মাত্রায় নুন-চিনি যুক্ত খাবার খেলে ওজনের পাশাপাশি শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়বে। আর প্রদাহ বাড়লে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের যন্ত্রণার মাত্রাও বাড়বে। যে সমস্ত খাবারে সোডিয়াম আর চিনি বেশি, তা আর্থ্রাইটিসের রোগীদের না খাওয়াই ভাল। যে কোনও প্যাকেটজাত খাবার এবং ফাস্টফুডে নুন, চিনির মাত্রা বেশি থাকে, তাই সেগুলি না খাওয়াই ভাল।
* কড়া ডায়েট বা শরীরের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়া— খুব কড়া ডায়েট করলে বা প্রয়োজনের তুলনায় কম খেলে শরীর এমন সব পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হতে পারে, যা সুস্থ হাড় গঠন ও তা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। কড়া ডায়েট, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা এবং শরীরের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ার কারণে ক্যালশিয়াম, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের গ্রহণ কমে যেতে পারে, যা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
