
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: পুজোর আর বেশি দেরি নেই। উৎসবের মরশুমে বদলে যায় রোজকার জীবনযাত্রার ছন্দ, অনিয়মিত হয়ে পড়ে খাওয়াদাওয়ার সময়ও। প্যান্ডেল হপিং থেকে আড্ডা—সব মিলিয়ে মাঝেমধ্যেই টুকটাক কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হয়। কিন্তু থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে মুখ চালানোর জন্য কী বেছে নিচ্ছেন, সেদিকে একটু বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকলে স্ন্যাকস বাছাইয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।
থাইরয়েডের সমস্যায় শুধু প্রধান খাবারের দিকেই নজর রাখলেই হয় না, দিনের মাঝের সময়টায় কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ক্ষেত্রেই ওজন বৃদ্ধি, রক্তে শর্করার ওঠানামা কিংবা থাইরয়েডের ওষুধের সঙ্গে নির্দিষ্ট খাবারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকে। তাই অতিরিক্ত তেল-মশলা বা চিনি-সমৃদ্ধ খাবারের বদলে তুলনামূলক পুষ্টিকর স্ন্যাকস বেছে নেওয়া ভালো। এই জায়গায় মাখানা হতে পারে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস। তবে এটি থাইরয়েডের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
∆ থাইরয়েডে মাখানা কতটা নিরাপদ?
মাখানা, অর্থাৎ, ফক্স নাট বা লোটাস সিড, পরিমিত পরিমাণে খেলে খুবই স্বাস্থ্যকর একটি স্ন্যাকস। থাইরয়েডের সমস্যায় এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত কোনও বিধিনিষেধ নেই। থাইরয়েড রোগীদের খাবার নিয়ে আলোচনায় ‘গয়ট্রোজেন’ শব্দটি প্রায়ই আসে। কিছু খাবারে থাকা এই ধরনের যৌগ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাইরয়েড হরমোন তৈরির প্রক্রিয়া বা শরীরে আয়োডিন ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সব খাবারের ক্ষেত্রে এর প্রভাব একরকম নয়। খাবারের ধরন, পরিমাণ এবং ব্যক্তির সামগ্রিক পুষ্টির অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম থাকলেও মাখানা সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে।
∆ ওজন বাড়লে মাখানা?
হাইপোথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে। সেই সময়ে বিস্কুট, ভাজাভুজি বা মিষ্টির বদলে মাখানা বেছে নেওয়া যেতে পারে। মাখানায় কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে, যা কিছুটা সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে অকারণে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তবে তাই বলে ইচ্ছেমতো মাখানা খাওয়া যাবে না।
বিশেষ করে ঘি, মাখন, চিনি বা নুন বেশি দিয়ে তৈরি করলে মাখানার ক্যালরি অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। মাখানা সুষম খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু থাইরয়েডের কারণে বেড়ে যাওয়া ওজন কমানোর আলাদা কোনও ‘উপায়’ নয়।
∆ মাখানায় আছেটা কী?
মাখানায় রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান। শরীরের স্বাভাবিক পেশি, হাড় এবং বিপাকীয় কার্যকলাপের জন্য এগুলির প্রয়োজন রয়েছে। তবে মাখানা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার কারণ নেই। এটি খেলেই থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বা থাইরয়েড ‘ব্যালান্স’ হবে, এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দরকার।
∆ আসল সতর্কতা ওষুধে—
থাইরয়েড রোগীদের ক্ষেত্রে মাখানা খাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল ওষুধ ও খাবারের সময়ের ব্যবধান। যাঁরা লেভোথাইরক্সিন বা থাইরক্সিন রিপ্লেসমেন্ট ওষুধ খান, তাঁদের এই বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার। খাবার লেভোথাইরক্সিন শরীরে শোষিত হওয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সাধারণত খালি পেটে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে ওষুধ খাওয়ার কতক্ষণ পরে খাবার খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী মেনে চলা উচিত। কোনও নির্দিষ্ট স্ন্যাকস স্বাস্থ্যকর হলেই সেটি ওষুধ খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া নিরাপদ, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন একই নিয়মে ওষুধ খাওয়া এবং খাবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবধান বজায় রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
∆ মাখানা কীভাবে খাবেন?
মাখানা খাওয়ার সহজ উপায় হল শুকনো ভেজে নেওয়া। স্বাদ বাড়াতে অল্প মশলা বা সামান্য ঘি দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত নুন, চিনি বা ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত মাখানার বদলে বাড়িতে তৈরি করে খাওয়াই ভালো। চাইলে ভাজা মাখানার সঙ্গে অল্প বাদাম বা বীজ মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে স্ন্যাকসটি আরও তৃপ্তিদায়ক হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, মাখানা থাইরয়েডের চিকিৎসা নয়। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসই মূল বিষয়।
