
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অতিরিক্ত ওজন কমাতে এখন অনেকেই নিয়মিত ডায়েট, শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পথে হাঁটছেন। ওজন কমছে কি না, তা জানতে মাঝেমধ্যেই ওজন মেশিনে দাঁড়িয়ে পড়েন অনেকেই। কিন্তু একদিনে বা একাধিক জায়গায় ওজন মাপলে অনেক সময় ভিন্ন ভিন্ন ফল দেখা যায়। এতে অকারণ দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত আনন্দ—দুটোই হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ওজন দিনের বিভিন্ন সময়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা ওঠানামা করে। খাবার খাওয়া, জল পান, ব্যায়াম, পোশাকের ওজন এমনকি শরীরে জলধারণের পরিমাণও ওজনের উপর প্রভাব ফেলে। তাই যে কোনও সময় ওজন মাপলে প্রকৃত ফল নাও মিলতে পারে। তাই জেনে নিন, কোন কোন সময় ওজন মাপলে ফলাফল ভুল দেখায়।
১) খাওয়াদাওয়ার ঠিক পরেই ওজন মাপবেন না। এতে ফলাফল ভুল দেখানোর সম্ভাবনাই বেশি। এ ক্ষেত্রে ওজন মেশিনে যে বাড়তি ওজন ধরা পড়ে, সেটা আসলে ‘ফুড’ (খাবার), ফ্যাট (মেদ) নয়।
২) ডায়েট শুরু করার কিছু দিনের মধ্যেই অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। কোষ্ঠকাঠিন্য চলাকালীন ওজন না মাপাই ভাল। এ ক্ষেত্রেও ওজন মেশিনে ফলাফল ভুল দেখাতে পারে।
৩) ঋতুস্রাবের ঠিক আগে বা ঋতুস্রাব চলাকালীন শরীরে হরমোনজনিত অনেক রকম পরিবর্তন আসে। এর ফলে স্বাভাবিক কারণেই পেট ফেঁপে থাকে, ওজনও বাড়ে। ওই সময় ওজন মাপলে তা বেশি দেখাতেই পারে।
৪) রাতে ভাল ঘুম না হলে সেই প্রভাবও পড়তে পারে শরীরের উপর। ঘুম না হলে শরীরে প্রদাহ তৈরি হতে পারে, যার ফলে ওজন বেড়ে যায় এবং যন্ত্রেও ওজন বেশি দেখায়। তা ছাড়া আগের দিন রাতে অতিরিক্ত নোনতা খাবার কিংবা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খেয়ে থাকলেও এমনটা হতে পারে। সোডিয়াম শরীরে জলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, আর সেই কারণেও ওজন বেশি দেখাতে পারে।
৫) ছুটি কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পরই ওজন মাপার প্রবণতা থাকে অনেকের। এই অভ্যাস বদলে ফেলুন। সেই সময় ওজন বেশি দেখাবে, সেটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক জীবনযাবনে ফিরে ১০ দিন পর ওজন মাপুন। দেখবেন আগের ওজনের সঙ্গে খুব বেশি ফারাক চোখে পড়বে না।
∆ কী ভাবে ওজন মাপবেন?
১) সকালে প্রাতঃকৃত্য সেরে খালি পেটে ওজন মেপে নিলে ভাল হয়। জল, চা, কফি কিংবা ওষুধ খাওয়ার আগেই ওজন মেপে ফেলা উচিত।
২) সপ্তাহে এক বার বা ১৫ দিনে এক দিন ওজন মাপা ভাল। প্রতি দিন যে কোনও সময়ে ওজন মাপতে শুরু করলে তা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আরও বাড়াবে।
৩) জামাকাপড় খুলে কেবল অন্তর্বাস পরে ওজন মাপলে ফলাফল সঠিক দেখাবে।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওজন মেশিনের সংখ্যার উপর নির্ভর না করে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত শরীরচর্চা এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।
