
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: গরমের দাপটে নাজেহাল রাজ্যবাসী। সকাল গড়াতেই চড়ছে তাপমাত্রা, সঙ্গে অস্বস্তিকর আর্দ্রতা। এমন আবহাওয়ায় সামান্য অসাবধানতাও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমিভাব থেকে শুরু করে হিট স্ট্রোকের মতো গুরুতর সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিল কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রচণ্ড গরমে শরীরকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে জরুরি পর্যাপ্ত জল পান করা। শুধু জল নয়, শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়মিত ওআরএস, ডাবের জল, লেবুর শরবত কিংবা ঘরে তৈরি হালকা পানীয় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে চলার কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে বেরোতে হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার করার পাশাপাশি হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরতে বলা হয়েছে। খাবারের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছে আয়ুষ মন্ত্রক। জেনে নিন বিস্তারিত।
১. ছাস: জল দিয়ে খুব পাতলা করে দই গুলে নিয়ে তাতে সৈন্ধব নুন এবং জিরেগুঁড়ো দিয়ে তৈরি করা হয় ছাস। নোনতা এবং পাতলা ছাসে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে পেট ভাল রাখে। জল দিয়ে পাতলা করা হয় বলে জলের জোগানও থাকে শরীরে।
২. ডাবের জল: গরমে ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় জরুরি খনিজ লবণ। তার ফলেই ক্লান্তি আসে। শরীরে জল এবং খনিজ লবণের অভাব হলে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তা যাতে না হয়, সেই জন্য ডাবের জলে চুমুক দেওয়া ভাল। এতে থাকা সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো খনিজ শরীরে ইলক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. পাতিলেবুর জল: বাজারচলতি চিনি দেওয়া কৃত্রিম স্বাদ-গন্ধের শরবতের চেয়ে পাতিলেবুর জলই বেছে নিতে বলা হচ্ছে। পাতিলেবুতে থাকে ভিটামিন সি, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাতিলেবুর রসমিশ্রিত নুন-চিনি মেশানো শরবত শরীরে দ্রুত শক্তিও জোগায়।

৪. ছাতুর শরবত: ছাতু শুধু প্রোটিনের উৎস নয়, পাতিলেবু দিয়ে তৈরি ছাতু-নুন-চিনির পাতলা শরবত গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতেও সাহায্য করে। শরীরে জলের জোগান দেয়।
৫. জিরে ভেজানো জল: পেট ভাল রাখতে চুমুক দিতে পারেন জিরে ভেজানো জলেও। সারা রাত জিরে ভিজিয়ে সেই জলও খাওয়া যেতে পারে।
রোদের তাপ থেকে বাঁচতে শুধু পানীয় নয়, জলের ভাগ বেশি থাকা ফলও খেতে বলা হয়েছে। যেমন, তরমুজ, শসা, আঙুর, আম, ফুটি খাওয়া যেতে পারে। দৈনন্দিন খাবারও যেন সহজপাচ্য হয়। চিকিৎসকদের মতে, শিশু, বয়স্ক এবং যাঁদের দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে গরমের প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। তাই তাপপ্রবাহ চলাকালীন শরীরের সামান্য অস্বস্তিকেও হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।
