
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: দুর্ঘটনা বা শারীরিক অসুস্থতা কখনও আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে আসে না। রাস্তাঘাটে, বাড়িতে কিংবা কর্মক্ষেত্রে আচমকাই কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। অনেক সময় পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগের কয়েক মিনিটই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেকেই তখন কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না।
শুধু ব্যান্ডেজ, তুলো বা অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করলেই ফার্স্ট এইড সম্পূর্ণ হয় না। হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, শ্বাসকষ্ট কিংবা প্যানিক অ্যাটাকের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ চিকিৎসক আসার আগেই প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা রোগীর অবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তাই আজকের প্রতিবেদনে জেনে নিন চটজলদি কিছু কৌশল।
১। সবার প্রথমেই খেয়াল করুন, অসুস্থ ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস কেমন চলছে। স্বাভাবিক নাকি দ্রুত? শ্বাসের গতি পরখ করলেই বোঝা যাবে, অবস্থা কতখানি আশঙ্কাজনক।
২। বুকের বাঁ দিকে তালুর চাপ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে, হৃদপিণ্ডের গতি দ্রুত, ধীর নাকি স্বাভাবিক। পালস পাওয়া যাচ্ছে কি-না, তা বোঝার পদ্ধতিও জেনে রাখা দরকার সকলেরই।
৩। ‘চেস্ট কমপ্রেশন’ কীভাবে দিতে হয়, সে বিষয়ে নিখুঁত ভিডিও পেয়ে যাবেন অনলাইনে। এমন আপতকালীন পরিস্থিতির জন্য সকলেরই তা শিখে রাখা উচিত। প্রয়োজনে সঠিক পদ্ধতি মেনে অসুস্থ ব্যক্তির বুকের ওপর দুই হাত একত্র করে রেখে কয়েক দফা চাপ দিন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার দিতে হবে এই কম্প্রেশন।

৪। যদি ব্যক্তিটি শ্বাস না নিতে পারে, অথবা পালস না পাওয়া যায়, তবে ঘটনাবিশেষে ‘সিপিআর’ অর্থাৎ ‘মাউথ টু মাউথ রিসাসিটেশন’ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ ধরনের যে কোনও কিছু করার আগেই সাধারণ প্রশিক্ষন থাকা জরুরি।
৫। যদি উলটোদিকের ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়ে থাকে, অনবরত রক্ত ঝরে, তবে কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দিন। কাপড় ভিজে উঠলে, খুলে ফেলবেন না। তার ওপরেই চাপিয়ে দিন কাপড়ের আরও পরত।
৬। কাছাকাছির হাসপাতাল, নার্সিং হোম, দমকল, এমনকী স্থানীয় থানার নম্বরও অবশ্যই সঙ্গে রাখুন। ফার্স্ট এইড-এর ব্যবস্থা তো করবেনই। তার জন্য হাসপাতালে কল করে সাহায্য চাওয়াই বা থেমে থাকবে কেন?
* কেবল অসুস্থ ব্যক্তি নয়, এই অবস্থায় ফার্স্ট এইড যিনি দিচ্ছেন, তাঁর শান্ত থাকা সবচাইতে জরুরি। মাথা ঠান্ডা না থাকলে, কোনও সাহায্যই করা সম্ভব হবে না।
মনে রাখতে হবে, বিপদের সময়ে কয়েক মিনিটের সচেতন উদ্যোগই হয়ে উঠতে পারে কারও নতুন জীবনের কারণ।
