Health

1 hour ago

Work Health Tips: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ? নীরবে বাড়ছে শরীরের ঝুঁকি, এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্কতা আবশ্যক

Long Hours Sitting Side Effects
Long Hours Sitting Side Effects

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  আধুনিক কর্মজীবনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গিয়েছে কাজের ধরনও। বিশেষ করে কর্পোরেট ও বেসরকারি সংস্থাগুলিতে নির্দিষ্ট অফিস টাইমের গণ্ডি এখন অনেকটাই অস্পষ্ট। দিনের বড় একটা সময় কম্পিউটারের সামনে বসেই কাটাতে হয় কর্মীদের। কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে কখন যে টানা ৭-৮ ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে, তা অনেকেই বুঝতেই পারেন না। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি। পাশাপাশি শরীরের রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ায় পা ফুলে যাওয়া, অবশভাব কিংবা ব্যথার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বিশেষত দীর্ঘক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকলে শিরায় রক্ত চলাচল কমে যায় এবং পায়ে তরল জমার আশঙ্কা বাড়ে। এহেন পরিস্থিতিতে কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন? জেনে নিন বিস্তারিত।

* পা এবং গোড়ালির অংশ কি ফুলছে?

লম্বা সময় ধরে ওঠা-হাঁটার সুযোগ হয় না। হঠাৎ করেই কি মনে হচ্ছে, পায়ের পাতা ফুলে যাচ্ছে বা পা ভারী লাগছে? চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘পেরিফেরাল এডিমা’। দীর্ঘ ক্ষণ পা ঝুলিয়ে রাখলে রক্তস্রোত এবং শরীরের তরল মাধ্যাকর্ষণের টানে পায়ের দিকে নামতে শুরু করে। সে সব এসে জমে শরীরের নিম্নাংশের কোষ এবং কলায়। ফলে পা ফুলতে শুরু করে। নিয়মিত একই সমস্যা হলে সতর্কতা জরুরি। এমন লক্ষণকে অবহেলা করলে বিপদ হতে পারে। রক্তনালির ভিতরে এন্ডোথেলিয়াম। তা ছাড়া শিরায় থাকা একমুখী ভালভের মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডে পৌঁছোয়। কোনও কারণে এন্ডোথেলিয়ামের কার্যক্ষমতা নষ্ট হলে রক্তপ্রবাহের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হতে পারে। নির্দিষ্ট শিরার উপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে।

* জালকের মতো শিরা দেখা দেওয়া: পায়ের মধ্যে লালচে, নীল বা বেগনি শিরা জালকের মতো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া দরকার। শিরায় থাকা একমুখী কপাটিকা রক্তকে উপরের দিকে পাঠাতে এবং তা যাতে নীচে নামতে না পারে, সে ব্যাপারে সাহায্য করে। লম্বা সময় ধরে এবং দিনের পর দিন পা ঝুলিয়ে কাজ করার ফলে, কিছু শিরায় রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনও কারণে এই একমুখী কপাটিকা ঠিকমতো বন্ধ না হলে রক্ত উল্টোপথে চলে আসতে পারে। ফলে শিরা ফুলে যায় এবং আঁকাবাঁকা হয়ে প্রসারিত হয়। একেই বলা হয় ‘স্পাইডার ভেন’। এ ছাড়াও ‘ভেরিকোজ় ভেন’ হতে পারে, যেখানে শিরা ফুলে নীলচে হয়ে যায়।

* ঝিঁঝিঁ ধরা এবং পা অবশ হয়ে যাওয়া: পা ঝুলিয়ে বসার পরে অনেকেরই পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরে। কখনও কখনও তা এতটাই বেশি হয় যে, পা অসাড় লাগে। সাময়িক ভাবে বা এক, দুই দিন হলে বিষয়টি একরকম, কিন্তু নিয়মিত এমনটা হলে সতর্কতা জরুরি। রক্তনালি দিয়ে রক্তপ্রবাহ ঠিক না থাকলে বিশেষ কোনও স্নায়ুর উপরে চাপ পড়তে পারে। তার ফলে শরীরের ওই অংশ থেকে তথ্য মস্তিষ্কে ঠিক ভাবে পৌঁছোতে পারে না। ফলে শরীরের ওই অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে ঝিঁঝিঁ ধরতে পারে। ফলে সুচ ফোটার অনুভূতি তৈরি হয়।

* ঝুঁকি কোথায়— পা ফোলা, ভেরিকোজ় ভেন বা ঝিঁঝিঁ ধরার মতো সমস্যাগুলিকে অনেকেই হালকা ভাবে নেন। কিন্তু সব সমস্যা মিললে, তা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তা ছাড়া, রক্ত সঞ্চালন কমে গেলে, রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।

* কী ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব—

* টানা একই ভাবে বসে থাকা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। আধ থেকে এক ঘণ্টা অন্তর অন্তত ২-৩ মিনিট দাঁড়ানো এবং হাঁটা ভাল।

* চেয়ারে বসেই পায়ের কিছু ব্যায়াম করতে পারেন। পায়ের পাতা টান করে আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরান। এই ভাবে বার কয়েক করতে হবে। সম্ভব হলে পায়ের নীচে টুল রাখতে পারেন, যাতে সর্ব ক্ষণ পা ঝুলিয়ে না বসতে হয়।

* বসার সময় পায়ের পাতা যেন মাটিতে স্পর্শ করে থাকে। পায়ের উপর পা তুলে রাখলে বা পা ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা বেশি হতে পারে।

ব্যস্ত কর্মজীবনের মাঝেও শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি। সামান্য সচেতনতাই ভবিষ্যতে বড় শারীরিক সমস্যা থেকে রক্ষা করতে পারে।

You might also like!