Health

1 hour ago

Heat Safety: দাবদাহে নাজেহাল বাংলা! গরমে সুস্থ থাকতে, ডিহাইড্রেশন এড়াতে আজই বদলান খাদ্যাভ্যাস

Scorching Summer Survival
Scorching Summer Survival

 

দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক:  বৈশাখের দাবদাহে কার্যত পুড়ছে গোটা রাজ্য। দিনের পর দিন ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। আবহাওয়া দপ্তরের তরফে বারবার তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হচ্ছে, আর তারই সঙ্গে চিকিৎসকরাও দিচ্ছেন বিশেষ পরামর্শ। এই চরম গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ—বমি, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা কিংবা হজমের সমস্যা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র ওষুধ নয়, বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, আমাদের শরীরের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশই জল দিয়ে গঠিত। গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে সেই জল দ্রুত কমে যায়, ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই নিয়মিত জল পান এবং জলসমৃদ্ধ খাবার খাওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। জ্বালাপোড়া গরমে কী খাবেন আর কী খাবেন না? জেনে নিন।

১) গরমে সুস্থ থাকার প্রধান হাতিয়ার হল জলীয় খাবার। এই তালিকায় প্রথম নাম লেবু জল। চিনি এড়িয়ে সামান্য মধু মিশিয়ে নিলে এটি ক্লান্তি দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। শরীরকে চনমনে রাখতে ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার। প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটে ভরপুর এই পানীয় খনিজ লবণের ঘাটতি মেটায়। সকালে বা রোদে খাটাখাটুনির পর ডাবের জল অমৃত সমান।

২) ফল ও সবজির ক্ষেত্রে শসা ও তরমুজ আপনার পরম বন্ধু হতে পারে। শসায় প্রায় ৯৫ শতাংশই জল। এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, তরমুজ যেমন জল সরবরাহ করে, তেমনি শরীরে যোগায় তাৎক্ষণিক শক্তি। টিফিনে বা বিকেলের জলখাবারে এই দুই ফল অবশ্যই রাখুন।

৩) পেটের স্বাস্থ্য ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। রায়তা বা ঘোল হিসেবে দই খেলে হজম ভালো হয়। সঙ্গে যদি সামান্য পুদিনা পাতা যোগ করা যায়, তবে তা শরীরের জ্বালাপোড়া ভাব কমাতে সাহায্য করে।

৪) তবে গরমে বর্জনীয় তালিকার দিকেও নজর দেওয়া দরকার। কফি বা চা অত্যন্ত প্রিয় হলেও, গরমে এগুলি শরীরে জলের অভাব বা ডিহাইড্রেশন তৈরি করে। তাই ক্যাফিন জাতীয় পানীয় কমিয়ে বরং আম পান্না বা ছাঁস বেছে নিন। অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ ভারী খাবার এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ তা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই বাসি খাবার এড়িয়ে টাটকা রান্না করা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমত্তার কাজ।

নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়ায় সামান্য বদল আনলেই গ্রীষ্মের এই দাবদাহকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে প্রচুর জল পান করুন। এবং শরীরের প্রয়োজন বুঝে শীতল খাবার বেছে নিন। চিকিৎসকদের পরামর্শ, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন, হালকা পোশাক পরুন এবং বাইরে বেরোলে সঙ্গে অবশ্যই জল রাখুন। সামান্য অসাবধানতাই বড় অসুস্থতার কারণ হতে পারে। তাই এই গরমে সচেতন থাকুন, সঠিক খাবার বেছে নিন আর শরীরকে রাখুন সুস্থ ও সতেজ।  

You might also like!