
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: ক্রমশ বাড়ছে গরমের তীব্রতা, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি—বিশেষ করে বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের ক্ষেত্রে। পরিবারের অনেকেই চিন্তায় থাকেন, এই সময়ে কীভাবে তাঁদের সুস্থ রাখা যায়। কারণ প্রয়োজনের তাগিদে বহু বয়স্ক মানুষকেই রোদের মধ্যেই বাজার বা অন্যান্য কাজে বাইরে বেরোতে হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রবীণদের শরীর গরম সহ্য করার ক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে চড়া রোদে সানস্ট্রোক বা হিট এক্সহসনের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এর সঙ্গে বড় সমস্যা হল, অনেক বয়স্ক মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করেন না। এতে শরীরে জলশূন্যতা দেখা দেয়, যা বিপজ্জনক হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নিয়ম করে জল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি এমন খাবার দেওয়া উচিত, যা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। যেমন—
* মনে রাখতে হবে রোদ থেকে ফিরেই ফ্রিজের ঠান্ডা জল খাওয়া যাবে না। বদলে ঘরে তৈরি ডিটক্স পানীয় দিতে পারেন। ৫-৬টি তুলসী পাতা, হাফ ইঞ্চি কাঁচা হলুদকুচি ও সামান্য গোলমরিচ নিয়ে নিন। দু’কাপ জলে হলুদ ও তুলসী পাতা দিয়ে ভাল ভাবে ফোটান। জল লালচে-হলুদ রঙের হয়ে গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিন। এ বার গোলমরিচগুঁড়ো মিশিয়ে দিন। ঠান্ডা করে খেতে পারে। শসা, লেবু ও আদা একসঙ্গে ব্লেন্ড করে নিন। তার পরে না ছেঁকে শাঁস সমেত ওই স্মুদি দিতে পারেন। জলের ঘাটতি মেটাতে এই পানীয় খুবই উপযোগী।
* স্যুপও বয়স্কদের জন্য ভাল। যাঁরা সারা দিনে ২ লিটারেরও কম জল খান, তাঁদের জন্য স্যুপ ভাল বিকল্প হতে পারে। সবচেয়ে উপকারী টম্যাটো-তুলসীর স্যুপ। ৪টি পাকা টম্যাটো নিয়ে ভাল করে ছাড়িয়ে ধুয়ে নিন। একটি গোটা পেঁয়াজ কুচিয়ে নিন, সঙ্গে ৩-৪ কোয়া রসুন। কড়াইতে এক চামচ অলিভ তেল বা সাদা তেল দিয়ে আগে পেঁয়াজ ও রসুন কুচি ভেজে নিন। সামান্য নুন ও মিষ্টি দিয়ে ঢেকে বসিয়ে দিন। টম্যাটো গলে গেলে উপর থেকে গোলমরিচ, তুলসি পাতা ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।
* গরমে বমি শুরু হলে চিনি দেওয়া জল আগে খাওয়াতে হবে। ডাবের জলও এ ক্ষেত্রে কার্যকর। ডাবের জলে লেবুর রস ও সামান্য নুন মিশিয়ে নিন। উপরে সামান্য পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন। থেঁতো করেও দিতে পারেন। এই পানীয় হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাবে।
সবচেয়ে বড় কথা, বাড়ির প্রবীণদের প্রতি নজর রাখা প্রয়োজন। তাঁরা ঠিকমতো খাচ্ছেন কি না, পর্যাপ্ত জল পান করছেন কি না—এই বিষয়গুলির দিকে খেয়াল রাখলেই অনেক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। সচেতনতা ও সামান্য যত্নই গরমের দিনে প্রবীণদের সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি—এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
