দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমতলার পার্টি অফিস নিয়ে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ওই দপ্তরের বিতর্কিত অংশটি তৃণমূল বা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি নয় বলে কলকাতা হাই কোর্টে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। কয়েকদিন আগেই আমতলায় অভিষেকের কার্যালয়ের একাংশে বুলডোজার চালানো হয় এবং সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। সেই ভাঙার ঘটনাকে ঘিরেই শুরু হয় বিতর্ক। মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, যে অংশ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, সেটি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের মালিকানাধীন নয়। তবে বৃহস্পতিবার এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়নি। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত ওই জায়গায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে আমতলার ওই দপ্তরে আর কোনও ভাঙার কাজ করা যাবে না। আগামী ৬ আগস্ট দুপুর ২টোয় ফের মামলাটির শুনানি হবে। সেদিন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।
ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় বৈধ প্ল্যান-নথি ছাড়াই আমতলার কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। তা নিয়ে একাধিকবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলবও করে জেলা প্রশাসন। দেওয়া হয় নোটিস। নোটিসে উল্লেখ করা হয়, যে জমিতে সাংসদের কার্যালয়টি নির্মাণ হয়েছে, তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের নামে কেনা হয়েছিল। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। পরপর দু’বার নোটিসে সাড়া না দেওয়ায় শেষমেশ আমতলার বিতর্কিত ওই দপ্তর ভেঙে দেওয়া হয়। প্রশাসনের এহেন সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই তৃণমূল সাংসদের কোম্পানি ‘লিপস্ এন্ড বাউন্ডস’-এর তরফে হাই কোর্টে মামলা হয়।
আজ, মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে। শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের তরফ থেকে যে দাবি করা হচ্ছে, সেই দাবি একেবারেই ঠিক নয়। আইনজীবীর কথায়, পার্টি অফিসের যে অংশ ভাঙা হয়েছে তা লিপস এন্ড বাউন্ডসের সম্পত্তি নয়। দাগ নম্বর তুলে শুনানিতে রাজ্য আরও জানায়, লিপস এন্ড বাইন্ডসের অংশ ৫০৯ এবং ৫১২। সেখানে কোনও ভাঙচুর চালানোই হয়নি। ভাঙা হয়েছে ৫০৭ দাগ নম্বরে। এক্ষেত্রে স্থিতাবস্থার নির্দেশ প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন জানানো হয় রাজ্যের তরফে। পালটা লিপস এন্ড বাইন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্তের অভিযোগ, নূন্যতম নোটিশ দেওয়া হয়নি লিপস এন্ড বাউন্ডসকে। অভিযোগে কী ছিল, কোন নথির ভিত্তিতে বেআইনি নির্মাণ বলা হয়েছে, সেই সমস্ত তথ্যও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, কোনও বক্তব্যের সুযোগ না-দিয়েই দপ্তর ভাঙা হয়েছে বলে দাবি কিশোর দত্তের। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আগামী ৬ আগস্ট ফের এই মামলার শুনানি হবে বলে জানিয়েছে।
