
দূরন্ত বার্তা ডিজিটাল ডেস্ক: বলিউডের ব্যস্ততম অভিনেতাদের তালিকায় শীর্ষেই থাকেন সলমন খান। একের পর এক ছবির শুটিং, নতুন প্রজেক্টের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে সময় যেন তাঁর হাতে কমই। সম্প্রতি ‘মাতৃভূমি’র শেষ পর্যায়ের শুটিং এবং ‘এসভিসি ৬৩’র-এর কাজ শুরু করেও খবরের শিরোনামে তিনি। তবে কাজের ব্যস্ততার মাঝেই নতুন করে সামনে এসেছে পুরনো এক বিতর্ক।
২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’-কে ঘিরে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’র সম্ভাব্য যোগসূত্র। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন। রাম গোপাল ভার্মার কথায়, “ভরত শাহর কাছে এক ভদ্রলোক এসে বলেন সলমন তাঁকে ডেট দিয়েছেন। এটা শুনে কোনও বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেননি, শুধু বলেছিলেন ঠিক আছে। কিন্তু, সেই ভদ্রলোকটির কোনও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল না। এমনকী ধনী ব্যক্তিও নন। তাহলে সলমন ওকে ডেট কেন দেবেন? ভরত শাহ যখন সলমনের সত্যিটা জানতে তখন পূর্ণ সম্মতি দিয়ে জানান ওই ভদ্রলোককে ডেট দেওয়া হয়েছে।” তবুও সলমনের সম্মতির ভিত্তিতে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরে সেই ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করে ছবির কাজ শুরু হয়।

প্রথমদিকে সব কিছু স্বাভাবিক বলেই মনে করেছিলেন ভরত শাহ। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায়, যখন জানা যায় প্রযোজক নাজিম রিজভির-র আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ভর্মার কথায়, “কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন যে প্রযোজক নাজিম রিজভির ছোটা শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ আছে। কিন্তু নিজেকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন তিনি তো কোনও অবৈধ ব্যবসা করছেন না। প্রযোজকের যদি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, তাতে তার কী আসে যায়? নিজে তো অপরাধী নন, শুধু একজন অপরাধীর সঙ্গে যুক্ত মাত্র।”
ঘটনা আরও ঘনীভূত হয়, যখন এক ব্যবসায়ী আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি সংক্রান্ত ফোন পান। সাহায্যের আশায় তিনি ভরত শাহর দ্বারস্থ হন। পরে বিষয়টি ছোটা শাকিলের কাছে পৌঁছালে দাবিকৃত টাকার অঙ্ক কমানো হয় বলে জানা যায়। এভাবে ক্রমশ একাধিক মানুষ ভরত শাহর কাছে সাহায্য চাইতে শুরু করলে গোটা বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
পরবর্তীতে মুম্বই পুলিশ তদন্তে নামে এবং ২০০১ সালে ভরত শাহ ও নাজিম রিজভিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ ছিল, আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যোগাযোগ গোপন রাখার চেষ্টা। আদালত ভরত শাহকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এই পুরনো ঘটনার নতুন করে উত্থান আবারও প্রশ্ন তুলেছে বলিউড ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের সম্পর্ক নিয়ে। যদিও বিষয়টি বহু পুরনো, তবুও তা ঘিরে চর্চা এখনও থামেনি।
